শিলিগুড়ি: সিনেমার জনপ্রিয় গান “সাত সমুদ্র পার তেরে পিছে-পিছে হাম আ গয়ে” এই পংক্তিটিই যেন বাস্তবে রূপ পেল শিলিগুড়ি শহরে। ভালোবাসার টানে কাঁটাতার ও সীমান্তের বাধা উপেক্ষা করে বাংলাদেশ থেকে সোজা শিলিগুড়িতে এসে হাজির হলেন এক তরুণী। তবে রোম্যান্টিক গল্পের মতো সুখের সমাপ্তি ঘটেনি এই প্রেমের। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা ও গা ঢাকা দেওয়ার অভিযোগে শেষমেশ প্রেমিকের ঠাঁই হলো পুলিশি হেফাজতে। ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ভক্তিনগর থানা এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃত যুবকের নাম রাকেশ রাই। আদতে দক্ষিণ সিকিমের বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে সে শিলিগুড়ির লিম্বু বস্তি এলাকায় বসবাস করত। ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ ওই বাংলাদেশি তরুণীর সঙ্গে রাকেশের পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে গভীর প্রেমের সম্পর্ক। প্রায় দু’বছর ধরে চলা এই সম্পর্কে তারা একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করত এবং শিলিগুড়ির বিভিন্ন স্থানে একান্তে সময়ও কাটিয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই মেলামেশার পর তরুণী যখন রাকেশকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, তখনই বেঁকে বসে প্রেমিক।
বিয়েতে রাজি হওয়া তো দূর, উল্টে প্রেমিকাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে রাকেশ। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিজের আস্তানা বদলে লুকিয়ে বেড়াতে থাকে সে। এরই মধ্যে তরুণীর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে যান। সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু নাছোড়বান্দা প্রেমিকা হার মানেননি। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, নতুন ভিসা নিয়ে ফের তিনি ভারতে আসেন শুধুমাত্র প্রেমিকের খোঁজে।
শিলিগুড়িতে ফিরে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাকেশের খোঁজ না পেয়ে অবশেষে দু’দিন আগে ভক্তিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ রাকেশকে থানায় ডেকে পাঠায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে সোমবার তাকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই তরুণী বৈধ নথিপত্র নিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন কি না এবং তাদের সম্পর্কের গভীরতা কতটা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
