ইম্ফল: কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত আশার আলো খুঁজে পায়নি। রাজ্যের নির্বাচিত সরকার ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে রক্তক্ষয়ী হিংসায় জর্জরিত মণিপুরে। এই পরিস্থিতিতে উত্তর-পূর্বের রাজ্যটিতে শীঘ্রই শান্তি ঠিকই ফিরবে বলে আশাপ্রকাশ করল মণিপুরে সফররত সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের প্রতিনিধিদল। শনিবার চূড়াচাঁদপুরের একটি শরণার্থী শিবিরে গিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষগুলির সঙ্গে দেখা করে তারা। হিংসায় পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বাড়িঘর হারানো মানুষগুলিকে আশ্বস্ত করে বিচারপতি বিআর গভাই বলেন, ‘মণিপুরে শীঘ্রই শান্তি ফিরে আসবে। আমরা জানি, আপনারা সকলে একটি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সকলের সহযোগিতায় খুব অল্পদিনেই এই সময় কেটে যাবে। আপনারা সংবিধানের ওপর আস্থা রাখুন। আমাদের সংবিধান একদিন রাজ্যে পুরোপুরি শান্তি ফিরিয়ে আনবেই। একদিন আমরা সমস্ত বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করব।’
বিচারপতি গভাইয়ের নেতৃত্বে ওই বিচারপতিদের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ঘুরে দেখার পাশাপাশি চূড়াচাঁদপুরের মিনি সেক্রেটারিয়েট থেকে ভার্চুয়ালি আইনি পরিষেবা সহায়তা ক্যাম্প, লিগ্যাল এইড ক্লিনিক এবং অস্থায়ী চিকিত্সা পরিষেবা প্রদানেরও সূচনা করে। পরে বিষ্ণুপুরের মৈরাং কলেজে অপর একটি ত্রাণ শিবিরে যায় তারা। প্রতিনিধিদলের সদস্য তথা মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ বিচারপতি এন কোটিশ্বর রাও অবশ্য চূড়াচাঁদপুরে যেতে পারেননি। কারণ, সেখানকার আইনজীবীদের একটি সংগঠন তাঁর সফরে আপত্তি তোলে। পরে তিনি বিষ্ণুপুর সফরে প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মণিপুর যাত্রার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কংগ্রেস। দলের নেতা জয়রাম রমেশ এই সফরকে ভালো ব্যাপার বলে আখ্যা দিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কেন মণিপুর সফরে গেলেন না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রমেশ বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা মণিপুরে রয়েছেন। এটা ভালো ব্যাপার। ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কয়েকশো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সমাজে আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কেন মণিপুরে গেলেন না? এর উত্তর উনি দেবেন না। কেন এত দেরিতে সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে? এরও উত্তর নেই।’ রবিবার মণিপুর হাইকোর্টের একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বিচারপতিদের প্রতিনিধিদলের। শনিবার সকালে ওই প্রতিনিধিদল ইম্ফল পৌঁছোয়।
