Siliguri | ‘স্যর না থাকলে লালবাতি জ্বালাবেন না’, মন্ত্রীকে চিনলই না পুলিশ!

Siliguri | ‘স্যর না থাকলে লালবাতি জ্বালাবেন না’, মন্ত্রীকে চিনলই না পুলিশ!

শিক্ষা
Spread the love


সানি সরকার, শিলিগুড়ি: ক্ষমতার অন্দরমহলে যখন নতুন হাওয়া প্রবাহিত, তখন কিছু মুখ বদলে যায়। আর সেই বদলে যাওয়া মুখের ভিড়ে তৈরি হয় নানা মিষ্টি গল্প, কিন্তু ঘোর বাস্তব উপাখ্যান। রাজ্যের নতুন মন্ত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন পথে এমনই নিত্যনতুন ঘটনা ঘটে। বিস্ময়ের ঘোর তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি শিলিগুড়ির (Siliguri) ব্যস্ত রাজপথে ঘটে গেল তেমনই এক ঘটনা। যা কৌতুকরস এবং পদের মহিমাকে এক অদ্ভুত রসায়নে বেঁধেছে।

গল্পটা এক মন্ত্রীর এবং তাঁর লালবাতির। মাটিগাড়ার খাপরাইলের ব্যস্ত রাস্তায় তখন গাড়ির হর্ন, কর্মব্যস্ত মানুষের আনাগোনা। তার মাঝখান দিয়েই সগর্বে এগিয়ে আসছিল একটি গাড়ি। মাথায় তার জ্বলজ্বল করছে ‘লালবাতি’, যা কি না ক্ষমতার এক চিরন্তন প্রতীক। কিন্তু বিধি বাম! ক্ষমতার সেই চেনা আলো দেখেও চট করে চিনতে পারলেন না কর্তব্যরত পুলিশকর্মী। নতুন মন্ত্রীসভার সব মুখ কি আর খবরের কাগজের পাতা থেকে সোজা এসে ট্রাফিক পুলিশের মগজে চট করে গেঁথে যায়? ফলে যা হওয়ার তাই হল। হাত উঁচিয়ে গাড়িটিকে থামিয়ে দিলেন সেই পুলিশকর্মী। গাড়ির কাচ নামতেই পুলিশকর্মী অত্যন্ত বিনীত, কিন্তু দৃঢ় গলায় চালককে শুনিয়ে দিলেন মোক্ষম উপদেশ, ‘স্যর না থাকলে লাল বাতি জ্বালাবেন না!’ মন্ত্রী না থাকলে লালবাতি জ্বালিয়ে ঘোরার কী দরকার, প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আইন মেনে চলার পরামর্শ দিলেন ওই পুলিশকর্মী।

ব্যাস! চালকের তো চোখ চড়কগাছ। পিছনের আসনে স্বয়ং মন্ত্রী। অথচ পুলিশকর্মী ভাবছেন গাড়ি বুঝি ফাঁকা! মন্ত্রী অবশ্য নিজে মুখে কিছু বলে নিজের ওজন কমাননি। তিনি মৃদু হেসে পরিস্থিতির মজা নিচ্ছিলেন। কিন্তু চালক আর চুপ থাকতে পারলেন না। তিনি রীতিমতো সম্ভ্রম আর হালকা ধমকের সুরে বলে উঠলেন, ‘আরে পিছনেই তো স্যর!’

‘স্যর’, শব্দটি যেন জাদুর মতো কাজ করল। ভুল ভাঙতেই মুহূর্তের মধ্যে তাঁর চেহারার সেই দৃঢ় ভাব উধাও! শুধুই অপরাধীর চেনা চেহারা। হাতজোড় করে তিনি বললেন, ‘ইয়ে… মানে স্যর, একদম চিনতে পারিনি। কিছু মনে করবেন না। প্লিজ।’

নতুন মন্ত্রীদের অনেকের মুখই এখনও আমজনতা বা প্রশাসনের নীচুতলার কর্মীদের কাছে ততটা পরিচিত হয়ে ওঠেনি। আর সেই অপরিচিতির খেসারত দিতে হয়েছে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের মোড়েও। এমএলএ হস্টেল থেকে বেরিয়ে লালবাতি গাড়িতে যাচ্ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। লালবাতি দেখে তাঁর গাড়ি আটকে দেন কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকর্মী। মন্ত্রীর উদ্দেশে ওই কর্মীর উপদেশ, ‘গাড়িতে মন্ত্রী না থাকলে, লালবাতি জ্বালাবেন না।’ চালকের মাধ্যমে আনন্দময়ের পরিচয় জানার পর ওই পুলিশকর্মীর অবস্থাও খাপরাইলের পুলিশকর্মীর মতো। তিনিও ক্ষমা চেয়ে নিলেন। মন্ত্রী বলছেন, ‘এটা সাধারণ ঘটনা। আমাদের সবাইকে সকলের চিনতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। তাছাড়া উনি নিজের ডিউটি করেছেন।’

নিয়ম আর পরিচয়ের এই কানামাছি খেলা প্রমাণ করে দিল, পদ থাকলেই চেনা যায় না। চেনা মুখের জন্য কখনো-কখনো সময়েরও প্রয়োজন হয়। আপাতত রাস্তায় লালবাতি জ্বললে পুলিশকর্মীরা দু’বার ভাবছেন, ভিতরে ‘আসল স্যর’ আছেন তো!



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *