তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: শুধু পড়ুয়াদের শিক্ষাদানই নয়, স্কুলের যাবতীয় তথ্য পোর্টালে আপলোড করতে হয় প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। কিন্তু সিংহভাগ স্কুলেই নেই কম্পিউটার। ফলে নিজেদের মোবাইল ফোনে এই কাজ করতে হচ্ছে তাঁদের এবং তা করতে গিয়ে বিস্তর সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পড়ুয়া উপস্থিতি, মিড-ডে মিল থেকে পড়ুয়া ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আপলোড করতে হয় বাংলার শিক্ষা পোর্টালে। আবার বিভিন্ন পরীক্ষায় পড়ুয়াদের প্রাপ্য নম্বর এন্ট্রি করতে হয় স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস) পোর্টালে। যা সরকারি তরফে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কোন স্কুল কেমন চলছে, মূলত সেদিকে নজর রাখতেই পোর্টাল চালু এবং তথ্য নথিভুক্তির সিদ্ধান্ত সরকারের। সরকারি তরফে নিয়মিত এই কাজ করার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুলগুলিকে। তবে এমন নির্দেশ দেওয়া হলেও, বেশিরভাগ স্কুলকেই দেওয়া হয়নি কম্পিউটার। যার ফলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সমস্ত তথ্য এন্ট্রি করতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এই কাজে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি ভুলও হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। যে কারণে স্কুলগুলির তরফে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি তরফে কম্পিউটার দাবি করা হচ্ছে। কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে দক্ষিণ শান্তিনগর হিন্দি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন সরকার বলছেন, ‘পড়াশোনা করানোর পাশাপাশি হলিস্টিক রিপোর্ট কার্ড তৈরি করতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এছাড়াও মিড-ডে মিল সংক্রান্ত তথ্য আপডেট, পড়ুয়া ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যও নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করতে হয়। মোবাইল ফোনে আপলোড করতে গিয়ে প্রায়শই ভুল হচ্ছে। কম্পিউটার থাকলে কাজ করতে অনেক সুবিধে হয়।’ যে সমস্ত স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা বেশি, ওই স্কুলগুলিতে এই সমস্যা বেশি। হাকিমপাড়া জিএসএফপি স্কুলে তিনশোর বেশি পড়ুয়া রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কৃষ্ণা দাসের বক্তব্য, ‘স্কুলে কম্পিউটার থাকলে অনলাইনে এন্ট্রির কাজগুলি করার ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে এমন কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল হচ্ছে।’
বর্তমান সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় কম্পিউটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নেতাজি বয়েজ প্রাথমিক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক কাঞ্চন দাস। তিনি বলেন, ‘হার্ড কপিতে লেখা ছাড়াও অনলাইন পোর্টালে আমাদের শিক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এন্ট্রি করতে হয়। স্কুল কম্পোজিট গ্র্যান্ট থেকে আমরা একটি কম্পিউটার কিনে কাজগুলি করছি। তবে ইন্টারনেটের খরচ আমরা নিজেরাই দিচ্ছি।’ সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান দিলীপকুমার রায় বলছেন, ‘প্রাথমিক স্কুলগুলিতে যাতে অন্তত একটা করে কম্পিউটার সরকারি উদ্যোগে দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা আমরা করছি।’
