তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের (Siliguri Boys Excessive College) প্রাক্তন ছাত্র রাবিম্ব করঞ্জাইয়ের ছোট থেকেই আগ্রহের বিষয় ছিল কম্পিউটার। সেই আগ্রহকে সঠিক পথে চালিত করে এখন তিনি আমেরিকার হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক-ছাত্র। আদপে শিবমন্দিরের বাসিন্দা রাবিম্ব গত বৃহস্পতিবার সুই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পেয়েছেন অ্যাকাডেমিক রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড। বছর ৩৭-এর তরুণের এই কৃতিত্ব বাস্তবিক অর্থে বিরল। কারণ, এর আগে এই সম্মান পেয়েছিলেন কেবল কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাই।
শিলিগুড়ি (Siliguri) বয়েজ হাইস্কুলে পড়াকালীন ছাত্রাবস্থায় টাকা জমিয়ে কিনতেন কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। ২০০৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর কলকাতার এক বেসরকারি কলেজ থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে স্নাতক হন রাবিম্ব। তবে কম্পিউটার কোডিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ থাকায় আমেরিকার রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে স্নাতকোত্তরে পড়াশোনা করতে ভর্তি হন। এরপর হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যুক্ত হন। সেখানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপরে গবেষণা করছেন। সুই ফাউন্ডেশন থেকে এই সম্মান পেয়ে রাবিম্ব বলেন, ‘এই সম্মান কাজের প্রতি আমার আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আমার অধ্যাপক হওয়ার স্বপ্নকে আরও জাগিয়ে তুলেছে।’
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তাঁর এই কাজের জন্য গুগল থেকে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় বক্তা হিসেবে পাঠানো হয়। তিনি গুগলের একজন ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট। সুই ফাউন্ডেশনের অ্যাকাডেমিক রিসার্চ অ্যাওয়ার্ডে সম্মানীত হওয়ায় খুশি হয়ে তাঁর বাবা এবং শিলিগুড়ি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডঃ মলয় করঞ্জাই বলেন, ‘ছোট থেকে ছেলেকে দেখেছি কম্পিউটারে খুবই আগ্রহী। পড়াশোনায় কোনওদিন ফাঁকি দিত না। এখন নিয়ম মেনে গবেষণার কাজ করে যায়। এআই পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব এরর বা কম্পিউটার বিভ্রাট থাকে, কীভাবে তার সমাধান করা যায়- এ ব্যাপারে কাজ করে চলেছে।’ ছেলের এই সাফল্যে খুশি মা মঞ্জরী করঞ্জাইও।
