শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি: দীর্ঘদিন ধরেই চলছে সংস্কারের দাবি। ভবনের একাংশের পিলারের সিমেন্ট খসে পড়েছে। তা যখন-তখন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন বোর্ড তৈরি হয়েছে, তাহলে এবারে কি জংশন এলাকায় থাকা প্রশাসনিক ভবনটির হাল ফিরবে? সেই গুঞ্জনই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক ভবনের (SJDA constructing) নীচের তলায় থাকা মার্কেটের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ওই ভবনে বিভিন্ন কারণে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে (Siliguri)।
দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির সংস্কারের দাবি করতে করতে হতাশ ব্যবসায়ীরাও। নতুন করে তাঁরাও আর কিছু বলতে চাইছেন না। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান দিলীপ দুগার অবশ্য বলছেন, ‘ওই ভবন সংস্কার আমাদের প্রায়োরিটি লিস্টে রয়েছে। মেয়রের সঙ্গে এব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেব।’
জংশন সংলগ্ন শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই প্রশাসনিক ভবনটি বহু পুরোনো। বহুতল এই ভবনের একাংশে ফাটল ধরেছে। ভবনের নীচের অংশে থাকা মার্কেটে ঢুকলেই বেগতিক পরিস্থিতি নজরে পড়বে। একাধিক জায়গায় বড় বড় ফাটল। যত্রতত্র বিদ্যুতের তার ঝুলে রয়েছে। তার মধ্যেই সিলিন্ডার ব্যবহার করে দেদারে চলছে রান্নাবান্না। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভগ্নদশায় থাকা ফাটলগুলি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ওই ভবনের ব্যবসায়ী থেকে আমজনতার।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী প্রদীপ দাস বলেন, ‘ভবনটির সংস্কারের জন্য আমরা দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে এসজেডিএ-কে চিঠি দিয়ে এসেছি। পরবর্তীতে দেখা গেল, ভবনের যে তলায় এসজেডিএ কার্যালয় রয়েছে, সেটা শুধুমাত্র সংস্কার করা হল। পুরো ভবনটা আর সংস্কার করা হল না।’ তারও পরে এসজেডিএ-র কার্যালয়ই হিমাঞ্চল বিহারে চলে যাওয়ায় আশাহত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ভবনে আসা সাধারণ মানুষ। কাজের সূত্রে প্রায়ই ভবনে আসা অমল দাস বলছিলেন, ‘বর্ষার মরশুমে তো বিভিন্ন জায়গা থেকে জল চুইয়ে পড়ে। এভাবে চলতে থাকলে কোনওদিন ভবনটাই হয়তো ভেঙে পড়বে।’ এসজেডিএতে নতুন করে বোর্ড তৈরি হওয়ায়, প্রশাসনিক ভবনটার দিকেও যাতে এই বোর্ড তাকায় সেই দাবিই জানাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সরকারের কথায়, ‘এবারে অন্তত ভবনটার দিকে তাকানো হোক। নইলে ভবিষ্যতে এই ভবনকে ঘিরে আমাদের আরও বড় সমস্যার মুখে পড়তে হবে।’
