শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি (Siliguri) পুরনিগমকে ঘিরে ডামাডোল চলছেই। বোর্ড গঠনকে ঘিরে প্রকাশ্যে চলে এসেছে তৃণমূলের চূড়ান্ত অন্তর্বিরোধ। মেয়র পদে গৌতম দেবের পদত্যাগের পর নতুন বোর্ড গঠন নিয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের দেওয়া সময়সীমার শেষ দিন ছিল সোমবার। কিন্তু সোমবারও নতুন মেয়র কে হবেন তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারলনা তৃণমূল (Tmc) কাউন্সিলররা। নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক করলেও শেষ পর্যন্ত ২৪ জন কাউন্সিলর সই করে বোর্ড গঠনের আর্জি জানিয়ে কমিশনারকে চিঠি দেওয়া ছাড়া কিছু করে উঠতে পারেন নি। অন্য দিকে বৈঠকের মাঝপথেই পুরনিগম ছেড়ে বের হয়ে গেছেন ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার, শম্পা নন্দী ও অলোক ভক্তের মতো কাউন্সিলররা। তাঁরা কেউই আজকের চিঠিতে সই করেননি।
গত শুক্রবার মেয়র গৌতম দেবের পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারকে দলনেতা ও সঞ্জয় পাঠককে উপ দলনেতা করতে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশ। বোর্ড গঠনের দাবি জানাতেও সক্রিয় হন তাঁরা। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে একাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। শিলিগুড়ি পুরনিগমে তৃণমূলের কাউন্সিলর মোট ৩৭ জন। তারমধ্যে ৪ জন পদত্যাগ করেছেন। এছাড়াও এদিনের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন গৌতম দেব, রঞ্জন শীলশর্মার মতো একাধিক কাউন্সিলর। ফলে তাঁদের ভূমিকা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনারকে চিঠি দেওয়ার পর তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি কুন্তল রায় জানান, রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে তাঁরা বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন। সময় মতো তাঁরা মেয়র সহ অন্য পদাধিকারীদের নামও জানিয়ে দেবেন। তবে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার চিঠিতে কেন সই করেননি তার উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। বিজেপির বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন জানিয়েছেন, মেয়রের পদত্যাগের পর তৃণমূলের বোর্ড গঠনের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষকেই আরও সমস্যায় পড়তে হবে। একই সঙ্গে এদিনের বৈঠকে কাউন্সিলরদের সই জাল করা হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
