উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সিকিমের নামচিতে টানেল বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০ (Sikkim Tunnel Accident)। এখনও পর্যন্ত ৫ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে রয়েছেন এবং তাঁদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল।
গত সোমবার দুপুরে নামচির (Namchi) সামারদুং এলাকায় এনএইচপিসি-র তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেলের ভেতরে মিথেন গ্যাসের আকস্মিক বিস্ফোরণের (Methane gasoline explosion) ফলে এই বিপর্যয় ঘটে। ফলে ভেতরেই ওই প্রকল্পের আধিকারিক সহ মোট ২৫ জন শ্রমিক আটকে পড়েন। নামচির পুলিশ সুপার সোনাম ডি ভুটিয়া জানিয়েছেন, আটকে থাকা ২৫ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা গিয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৭ জনের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে।
এনএইচপিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পাথরের ভেতরে আটকে থাকা মিথেন গ্যাসের আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং (Prem Singh Tamang) এবং রাজ্যপাল ওম প্রকাশ মাথুর। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশানুযায়ী, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ থেকে একটি বিশেষ খনি উদ্ধারকারী দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পুরো পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন এবং কেন্দ্রের তরফ থেকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। সিকিম সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীও নিহতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন।
বর্তমানে আটকে থাকা শ্রমিকদের বাঁচাতে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রেখে সুড়ঙ্গের ভেতরে উদ্ধারকাজ জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সিকিম বিধানসভায় দুই মিনিট নীরবতা পালন করে শোকপ্রকাশ করা হয়।

