শিলিগুড়ি: সিকিমের (Sikkim) প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে যুক্ত হল এক নতুন পালক। জুলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জেডএসআই) এবং সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় সেই রাজ্যে সন্ধান মিলেছে ১১টি নতুন প্রজাতির গঙ্গাফড়িং (ড্রাগনফ্লাই) ও খুদে ফড়িংয়ের (ড্যামসেলফ্লাই)।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রিকা ‘প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’-এ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা সিকিমের বিভিন্ন উচ্চতায় দীর্ঘদিন ধরে সমীক্ষা চালিয়ে এই নতুন পতঙ্গদের খোঁজ পেয়েছেন। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া এই গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল, পাহাড়ি জলাভূমি ও বনাঞ্চলে বসবাসকারী পতঙ্গদের জীবনচক্র ও তাদের বসতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মঙ্গন, জোরথাং এবং গ্যাংটক এলাকায় এই নতুন প্রজাতির ফড়িংদের বসতি রয়েছে। গবেষকদের মতে, ফড়িং বা ড্রাগনফ্লাই কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলের ‘বায়ো-ইন্ডিকেটর’ বা পরিবেশের সূচক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে এরা বংশবৃদ্ধি করে। ফলে সিকিমের এই এলাকাগুলোতে নতুন প্রজাতির সন্ধান মেলা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এক সংকেত। সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (Sikkim College) প্রাণীবিদ্যা বিভাগের গবেষক নীরা রাওয়াত অধ্যাপক ডঃ ভোজ কে আচার্যের তত্ত্বাবধানে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করেছেন। ডঃ আচার্য জানালেন, সিকিমের বনাঞ্চল ও জলজ পরিবেশে এখনও নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া ভারতের জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করল।
