Sikkim | সিকিমে প্রবল তুষারপাত: আটকে পড়া ৪৬ পর্যটককে উদ্ধার করল সেনা, ঘনিয়ে আসছে তীব্র জলসংকট!

Sikkim | সিকিমে প্রবল তুষারপাত: আটকে পড়া ৪৬ পর্যটককে উদ্ধার করল সেনা, ঘনিয়ে আসছে তীব্র জলসংকট!

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির অস্বাভাবিক শুষ্ক মরসুম কাটিয়ে অবশেষে সাদা চাদরে ঢাকল সিকিমের চাঙ্গু ও নাথুলা বেল্ট। কিন্তু এই মনোরম আবহাওয়া মুহূর্তে বিষাদে পরিণত হয় যখন তুষারপাতের জেরে আটকে পড়েন বেশ কিছু পর্যটক। পরিস্থিতির মোকাবিলায় ‘অপারেশন হিমরাহাত’ (Operation Himrahat) শুরু করে ভারতীয় সেনা।

রবিবার জওহরলাল নেহরু (JN) রোডের সিপসু ও ১৬ মাইলের মাঝে বহু পর্যটকবাহী গাড়ি আটকে পড়ে। বরফের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। খবর পেয়েই আসরে নামে ভারতীয় সেনা। সঙ্গে ছিল পুলিশ ও জিআরইএফ (GREF)। প্রবল ঠান্ডার মধ্যে শিশু সহ ৪৬ জন পর্যটককে উদ্ধার করে ১৭ মাইলের আর্মি ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। রাস্তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে।

ভারত মৌসম ভবন (IMD) রবিবার বিকেলে পাকিয়ং, গ্যাংটক এবং মঙ্গন জেলার জন্য ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উত্তর ও পূর্ব সিকিমে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গন জেলায় বৃষ্টির এই দাপট ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির এই তুষারপাত পর্যটকদের আনন্দ দিলেও পরিবেশবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তাঁদের মতে:
• দাবানল: দীর্ঘ শুষ্ক মরসুমের কারণে মঙ্গন, কুপুপ ও নাথাংয়ের পাহাড়ি বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
• শুকিয়ে যাচ্ছে নদী: গ্যাংটকের প্রধান জল উৎস ‘রাতি ছু’ (Ratey Chhu)-র জলস্তর সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছে। বর্তমান জল সরবরাহ ক্ষমতার মাত্র ৪০-৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
• জলসংকট: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও উৎস শুকিয়ে যাওয়ার ফলে গ্যাংটক শহরে আগামী মার্চ ও এপ্রিলে তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আধিকারিকরা।

প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণ আদতে জলবায়ু পরিবর্তনেরই অশনি সংকেত। একদিকে পর্যটনের জন্য তুষারপাত আশীর্বাদ হলেও, শুষ্ক শীতের কারণে হাহাকার বাড়ছে জলের। পর্যটকদের জন্য পাহাড় এখন উন্মুক্ত হলেও প্রশাসনের পরামর্শ— আবহাওয়া ও রাস্তার খবর নিয়ে তবেই যেন তাঁরা উপরের দিকে যাত্রা করেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *