মুল্লানপুর: ম্যাচ শেষ। গুজরাট টাইটান্স ডাগআউটে একরাশ যন্ত্রণার ছবি। কিছুটা দূরে সারাক্ষণ দলের হয়ে গলা ফাটানো আশিস নেহেরার ছেলে কেঁদে চলেছে। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া হতাশা নিয়ে বিধ্বস্ত হাল শুভমান গিলের বোনের। চোখে জল। শূন্য দৃষ্টি নেহেরারও।
গোটা টুর্নামেন্টে আধিপত্য দেখিয়ে শেষ পর্বে পা হড়কানো। হিসেব মেলাতে পারছিলেন না অনেকে। শেষ ওভার পর্যন্ত আশায় বুক বেঁধেছিলেন কেউ কেউ। ২৪ রান দরকার। রাহুল তেওয়াটিয়া রয়েছেন। টানা চার ছক্কা মেরে জেতানোর নজির রয়েছে যাঁর। শাহরুখ খানের ব্যাটিং বিক্রমের কথা ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত। কিন্তু আশাভঙ্গ।
ভবিতব্যটা যদিও শুভমান গিল অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিলেন! ১৬তম ওভারে রিচার্ড গ্লিসনের বলে বি সাই সুদর্শনের উইকেট ছিটকে যাওয়ার পর শুভমানকে দেখা গেল ডাগআউট ছেড়ে সাজঘরের পথে। শরীরী ভাষায় ম্যাচ সবকিছু শেষের আক্ষেপ। শেষপর্যন্ত ২০ রানে হেরে বিদায়ঘণ্টা।
ম্যাচ শেষে শুভমান দুষলেন ক্যাচ মিসকে। ৮১ রান করে ম্যাচের সেরা রোহিত শর্মারই পড়ে জোড়া ক্যাচ। তাও একেবারে শুরুর দিকে (৩ ও ১২ রানে)। সূর্যকুমার যাদবও একবার জীবন পান। সেই আক্ষেপটাই ঝরে পড়ছিল গিলের গলায়। গ্রুপ লিগে মুম্বইকে দুইবার হারালেও সুযোগ মিসে এলিমিনেটরের ‘ডু অর ডাই ম্যাচে’ স্ক্রিপ্ট বদল।
শুভমানের দাবি, তিনটি সহজ ক্যাচ মিস হয়েছে। বোলারদের কাজ যা আরও কঠিন করে দেয়। এতগুলি ক্যাচ হাতছাড়া তাঁদের বিপক্ষে গিয়েছে। খেসারত চুকোতে হয়েছে ভালোমতো। ২০৫-২১০ রানের মধ্যে আটকে রাখা উচিত ছিল মুম্বইকে। কিন্তু ক্যাচ হাতছাড়ায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। শেষপর্যন্ত ২২৮ রান তোলে মুম্বই। জবাবে গুজরাটের ২০৮।
শুভমান প্রথম ওভারে আউট হলেও সুদর্শন ম্যাচকে উত্তেজক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সুদর্শন (৪৯ বলে ৮০) ফিরতেই ম্যাচ থেকে ক্রমশ হারিয়ে যায় গুজরাট। শুভমানও বলেছেন, ‘শেষ তিন-চার ওভার আমাদের পক্ষে যায়নি। তারপরও বলব দারুণ একটা ম্যাচ হল। এবারের মতো অভিযান থামলেও ইতিবাচক অনেক কিছু পেলাম আমরা। দলকে কৃতিত্ব দিতে হবে। বিশেষত সাইকে। দুর্দান্ত।’
গুজরাটের প্রাপ্তির তালিকায় শীর্ষে নিঃসন্দেহে সুদর্শন। ক্রিকেটীয় শটের নান্দনিক ব্যাটিংয়ে গতকালও জসপ্রীত বুমরাহ, ট্রেন্ট বোল্ট সমৃদ্ধ বোলিংয়ের কপালে ভাঁজ ফেলেছিলেন। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের সাফল্যের রহস্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুদর্শন জানান, ব্যাটিং নিয়ে প্রচুর পরিশ্রম করছেন। প্রতিটি বিষয়ে উন্নতির জন্য ঘাম ঝরাচ্ছেন। সুফল পাচ্ছেন কাউন্টি ক্রিকেটে খেলারও।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সুদর্শন বলেছেন, ‘কাউন্টিতে গোটা সাতেক ম্যাচ খেলেছি। দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। টেকনিক, ক্রিকেটীয় বেসিকের উন্নতিতে কাউন্টির অভিজ্ঞতা ভীষণভাবে সাহায্য করেছে। আরও শিখতে চাই। ফোকাস রাখতে চাই শেখাতে, যা আমাকে আগামীতে সাহায্য করবে।’
আইপিএল অভিযান শেষ। এবার মিশন ইংল্যান্ড। কাউন্টির বদলে এবার জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলার হাতছানি। সাদা বলের টি২০ ফর্ম্যাটের বদলে লাল বলের ক্রিকেট। সুদর্শনের কথায়, মাস তিনেক সাদা বলে খেলার পর লাল বলে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। কিছুটা সময় লাগবে। সিরিজের আগে পাওয়া ম্যাচ, সময়কে কাজে লাগাতে চান। মুখিয়ে রয়েছেন যত দ্রুত সম্ভব ইংল্যান্ডগামী বিমানে উঠে পড়তে।
