উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর-এর (SIR Listening to) শুনানিতে সাধারণ মানুষের হয়রানি রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর সঙ্গে জেলাশাসকদের (District Justice of the Peace) বৈঠকে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন (Supreme Court docket Tips) মেনেই যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কোনওভাবেই যেন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব জেলাশাসকদেরই নিতে হবে।
শুনানির সময় কোন কোন নথি বৈধ হিসেবে গণ্য হবে, তা নিয়ে শীর্ষ আদালত আগেই নির্দেশিকা দিয়েছে। নবান্নের তরফে জেলাশাসকদের বলা হয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা সমতুল্য নথিকে প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। যাঁদের তথ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের নামের তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক, মহকুমা এবং ওয়ার্ড অফিসে ঝোলাতে হবে যাতে তাঁরা সময়মতো জানতে পারেন। নথি জমা দেওয়ার পর বাধ্যতামূলকভাবে রসিদ দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, শুনানির নির্দিষ্ট দিনে যদি কেউ উপস্থিত হতে না পারেন, তবে তাঁর জন্য বিকল্প তারিখ বা ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে। বিশেষ করে যাঁরা অসুস্থ বা শুনানি কেন্দ্রে আসতে অক্ষম, তাঁদের জন্য মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর জন্য ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে আলাদা সহায়তা কেন্দ্র খোলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজ যেন থমকে না যায়, সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রশাসন এবং এসআইআর—দুটি কাজই সমান্তরালে চালাতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে কোনওভাবেই সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে জেলাশাসকদের। নবান্ন এই কাজে প্রশাসনিকভাবে জেলাশাসকদের পাশে থাকার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে।
