মুম্বই: দল ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে। আরও একটা হার মানে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া। বাড়তে থাকা চাপের মধ্যেই স্যর ডন ব্র্যাডম্যানোচিত ব্যাটিং। দুই ইনিংসে ২৬৯ ও ১৬১। ম্যাচে ৪৩০ রান! একজন অধিনায়কের থেকে এরচেয়ে আর বেশি কিই-বা চাওয়ার থাকতে পারে? ভারতের তরুণ অধিনায়ক শুভমান গিলকে এভাবেই প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন রবি শাস্ত্রী।
এদিন এক পডকাস্ট শোয়ে শাস্ত্রী বলেছেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে সেরা পারফরমেন্স। দশের মধ্যে দশ। এরচেয়ে বেশি চাওয়ার থাকতে পারে না। সিরিজে দল ০-১ পিছিয়ে। সেই পরিস্থিতিতে ব্র্যাডম্যানসুলভ ব্যাটিং। দুই ইনিংসে ২৬৯, ১৬১ করে দলকে জেতানো, প্রশংসা কম পড়বে।’
প্রাক্তন হেডকোচের মতে, অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট অভিষেকে হেডিংলেতে কিছু ভুলচুক লক্ষ করেছিলেন শুভমানের দল পরিচালনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে। বার্মিংহামে দ্বিতীয় টেস্টে সেই ভুলত্রুটি ঝেড়ে অনেক বেশি সক্রিয়। একইসঙ্গে ইংলিশ কন্ডিশনে ভারতীয় বোলিং লাইনআপে সেরা বোলার আকাশ দীপকে আবিষ্কার করা। বাকি সিরিজে ইংল্যান্ড ব্যাটারদের যা ভোগাবে বলে মনে করেন শাস্ত্রী।
শুভমানকে প্রথম দেখার পুরানো গল্পও শোনালেন শাস্ত্রী। বলেছেন, ‘প্রথম যখন ওকে নেটে দেখি। বাউন্সি বলে ওর পুল শটে চোখ আটকে গিয়েছিল। বিরাট কোহলির পর এভাবে পুল করতে দেখিনি কাউকে। দুর্দান্ত ক্লাস, যা শচীনের মধ্যে দেখেছিলাম, বিরাটের মধ্যে লক্ষ করেছি। তখন সিনিয়ার দলের ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোরকে জিজ্ঞাসা করি, ছেলেটা কে? নির্বাচকদের সঙ্গেও কথা বলে আমরা ওকে দলে ডেকে নিয়েছিলাম।’
সিরিজ ১-১। পরবর্তী পরীক্ষা ক্রিকেট মক্কা লর্ডস জয়। শেষবার যেখানে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল কোহলির দল। সেই স্মৃতি উসকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন সেদিনের হেডকোচ শাস্ত্রী। পঞ্চম দিনে খেলা শুরুর আগে আত্মবিশ্বাসী কোহলি নাকি বলেছিলেন, ১৭০ রান হাতে থাকলেও ইংল্যান্ডকে হারাবেন। শেষপর্যন্ত ২৭০ রানের লিড নিয়ে মাত্র দুই সেশনে ইংল্যান্ডকে গুটিয়ে দিয়েছিল ভারত! এবার?
ভরসা শুভমানের ব্যাট। প্রথম দুই টেস্টে ইতিমধ্যেই তিন-তিনটি শতরান তাঁর নামের পাশে। অথচ, ইংল্যান্ডে পা রাখার আগে টেস্ট পরিসংখ্যানের ছবিটা নেহাত সাদামাটা। ফ্রন্টফুট প্লে-তে উন্নতি ঘটানোর সুফল হাতেনাতে। এমনই মনে করছেন স্বয়ং শচীন তেন্ডুলকার।
শচীন তেন্ডুলকারের যুক্তি ছিল, ফ্রন্টফুটের ভুলত্রুটিতে বেশিরভাগ ব্যাটার আউট হয়। শুভমানের সেই ত্রুটি ছিল। ইংল্যান্ডের মাটিতে সাফল্য পেতে যা দ্রুত মেটাতে হবে। ফ্রন্টফুটে খেলার সময় সামনের দিকে পা যেন একটু বেশি করে বাড়ায়। এরফলে রক্ষণে যেমন সুবিধা হবে, তেমনই ড্রাইভ অনেক বেশি নিখুঁত হবে। পারলে লাভ পাবে শুভমান। মাস্টার ব্লাস্টারের যে কথার প্রতিফলন সকলের সামনে।
