চ্যাংরাবান্ধা: সোমবার চ্যাংরাবান্ধায় (Changrabandha) অনুষ্ঠিত এক প্রকাশ্য সমাবেশে অংশ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ (Shatarup Ghosh)। এদিন সাধারন মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা, চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দরের আধুনিকীকরণ,মেখলিগঞ্জে ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের দাবী নিয়ে সিপিআইএম মেখলিগঞ্জ ২ নং এরিয়া কমিটির ডাকে মিছিল ও প্রকাশ্য সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানেই প্রধান বক্তা হিসাবে অংশ নেন শতরুপ।
এদিন চ্যাংরাবান্ধা বাইপাস থেকে কর্মী সমর্থকদের বিরাট মিছিল এশিয়ান হাইওয়ে বরাবর চ্যাংরাবান্ধা হাসপাতাল মোড় হয়ে চ্যাংরাবান্ধা বাজারের প্রকাশ্য সমাবেশ স্থলে শেষ হয়। সমাবেশে শতরূপ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষক সভার সেক্রেটারি আতিক হাসান, সিপিআইএম কোচবিহার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বিপিন শীল।
এদিনের জনসভায় শতরূপ সম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলকে একযোগে কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি বলেন,”জগন্নাথ মন্দির ও ইমাম ভাতা দিয়েই ভোট জিততে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।আর বিজেপি নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় মমতাকে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দিয়েছে।রাজ্যে সিপিআইএম ক্ষমতা এলে এইমস, একশো দিনের কাজ নিয়মিত রাখা, মাষ্টার ডিগ্রি অব্দি পড়াশোনা বিনামূল্যে করা, বেকারদের নিজের এলাকায় কাজের ব্যবস্থা করা হবে।”
এর পাশাপাশি বাংলাদেশের এক মুসলিম নেতার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সহ বিয়ের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ নিয়ে নিন্দায় সরব হন তিনি। এই বিষয়ে তিনি বলেন,”তীব্র ধিক্কার জানাই এমন মন্তব্যের। তৃনমূলের ও ভারত সরকারের এই নিয়ে পদক্ষেপ করা উচিত ছিল। কেন তারা নিরব আছে জানিনা।” এর পাশাপাশি মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশ চন্দ্র অধিকারী ও তার কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীকে দাগি চোর বলেও অভিহিত করেন তিনি।
হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”এলাকার উন্নয়ন নিয়ে জোট বাঁধতে চাইলে ভাবা যেত, কিন্তু মসজিদ বানিয়ে কি করে জোট হবে। মন্দির মসজিদের রাজনীতির সঙ্গে জোট নেই আমাদের। পাড়ায় পাড়ায় পুজোর সময় রোলের দোকানের মতো ভোটের আগে কিছু রাজনৈতিক দল গজায়।সারা পৃথিবীতে শুধুমাত্র হিন্দু নয়, যে কোনও সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর আক্রমণ হলে আমাদের প্রতিবাদ হবেই।’
