উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহের উত্তাপ এবার আছড়ে পড়ল ক্রিকেট মাঠে। একদিকে বিসিসিআই (BCCI) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) এবারের আইপিএলে খেলার অনুমতি দেয়নি, অথচ ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টিভি আম্পায়ারের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশেরই শরফুদ্দৌলা সৈকতকে (Sharfuddoula Saikat)। এই দ্বিচারিতা নিয়েই এবার তোলপাড় নেটমাধ্যম। নেটিজেনদের প্রশ্ন—বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ভারতের মাটি থেকে আয়ের পথ বন্ধ হলে, আম্পায়ারের ক্ষেত্রে নিয়মের শিথিলতা কেন?
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সংখ্যালঘু নির্যাতন ও উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে ভারতে বাংলাদেশি পণ্য ও ব্যক্তিত্বদের বয়কটের ডাক উঠেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের একাংশের দাবি ছিল, ওপার বাংলায় সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি মুস্তাফিজুর। এই আবহে জনরোষ এড়াতে এবং বিসিসিআই-এর নির্দেশে কেকেআর (KKR) তাঁদের স্কোয়াড থেকে এই বাঁ-হাতি পেসারকে বাদ দিয়েছে। কিন্তু বরোদায় আয়োজিত ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলার উপস্থিতি সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
শরফুদ্দৌলা সৈকত ভারতীয় সমর্থকদের কাছে খুব একটা প্রিয় নাম নয়। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বক্সিং ডে টেস্টে যশস্বী জয়সওয়ালকে নিয়ে তাঁর একটি বিতর্কিত আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন সুনীল গাভাসকর ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো কিংবদন্তিরা। স্নিকোমিটারে স্পষ্ট প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও জয়সওয়ালকে আউট দিয়েছিলেন তিনি। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, “যাঁর সিদ্ধান্ত বারবার ভারতের বিপক্ষে যায় এবং যাঁর দেশ ভারতের প্রতি বৈরী আচরণ করছে, তাঁকে কেন বরোদায় আম্পায়ারিং করতে দেওয়া হবে?”
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, মুস্তাফিজুর ও শরফুদ্দৌলার ক্ষেত্রে আইনি জটটা একটু আলাদা। মুস্তাফিজুরের ক্ষেত্রে বিসিসিআই-এর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বড় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু শরফুদ্দৌলা সৈকতকে নির্বাচিত করেছে আইসিসি (ICC)। আন্তর্জাতিক আম্পায়ার প্যানেলের অংশ হওয়ার কারণে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের বোর্ডের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC)-এর প্রয়োজন হয় না।
১৯৭৬ সালে ঢাকায় জন্ম শরফুদ্দৌলার। ক্রিকেটে তিনি ছিলেন লেগ স্পিনার। ঘরোয়া ক্রিকেটে ১০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৩১টি উইকেট নিলেও খেলোয়াড় হিসেবে বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। ২০০৭ সালে আম্পায়ারিংয়ে অভিষেক ঘটিয়ে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর দক্ষতা ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে তাঁর জাতীয় পরিচয় ও পুরনো বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো।
