জামালদহ: স্কুল আছে। আছে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ। রয়েছে শতাধিক পড়ুয়াও। কিন্তু স্কুল পরিচালনার জন্য নেই কোনও শিক্ষক। এই অবস্থায় কোনওক্রমে চলছে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জের উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের উছলপুকুরি ৩ নম্বর ফোর্থ প্ল্যান উচ্চপ্রাথমিক বিদ্যালয়। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্কুলের একমাত্র শিক্ষিকার চাকরি গিয়েছে ইতিমধ্যে। এখন কার্যত একা হাতে সরকারি উচ্চপ্রাথমিক স্কুলটি চালাচ্ছেন একজন মাত্র কম্পিউটার শিক্ষক। আশঙ্কা, এই অচলাবস্থায় যে কোনও সময় বন্ধের খঁাড়া নেমে আসতে পারে সরকারি স্কুলটির ঘাড়ে। বেশ কয়েকমাস একপ্রকার শিক্ষকহীন অবস্থায় স্কুল চলেছে। তা সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়োগে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। একজন কম্পিউটার শিক্ষক দিয়ে একটা গোটা স্কুল পরিচালনার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে!
জানা গিয়েছে, স্কুলটিতে এখন পড়ুয়া সংখ্যা ১০১। একমাত্র শিক্ষিকার চাকরি চলে যাওয়ায় তিনিও এখন ঠিকমতো হাজিরা দেন না। পঠনপাঠন সহ স্কুল পরিচালনার যাবতীয় কাজ সামলাচ্ছেন কম্পিউটার শিক্ষক সুশান্ত রায়। বিদ্যালয়ের তালা খোলা থেকে শুরু করে ক্লাস নেওয়া, মিড-ডে মিল পরিচালনা সহ সব কাজ একা হাতে সামলাচ্ছেন তিনি। অথচ শুধু কম্পিউটার শেখানোর জন্য স্কুলে নিয়োগ করা হয়েছিল তঁাকে। ফলে যাবতীয় কাজ সামলালেও বেতন পান নামমাত্র।
কম্পিউটার শিক্ষক সুশান্ত বলেন, ‘স্কুলে পর্যাপ্ত ছাত্রছাত্রী ও যথেষ্ট পরিকাঠামো থাকলেও একমাত্র সমস্যা শিক্ষকের অভাব। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা অঙ্কিতা ভৌমিকের চাকরি যাওয়ায় তিনি নিয়মিত আসছেন না। ছুটি নিয়ে বাড়িতে রয়েছেন তিনি। আমার একার পক্ষে বিদ্যালয় পরিচালনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু কম্পিউটার শিক্ষার দায়িত্ব নিলেও আমাকে সব ক্লাসে পড়াতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বার্ষিক পরীক্ষা।’
অভিভাবক রবীন্দ্র বর্মন, শ্যামল বর্মনরা জানাচ্ছেন, আমরা ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে পাঠাচ্ছি। কিন্তু শিক্ষকের অভাব থাকায় কোনও ক্লাস ঠিকমতো হচ্ছে না। এইভাবে কতদিন চলবে? প্রশাসনের উচিত, অবিলম্বে শিক্ষকের বন্দোবস্ত করা। এভাবে একটি সরকারি স্কুল চলতে পারে না। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকার কারণ একমাত্র সরকারি সদিচ্ছার অভাব।
এই বিষয়ে মেখলিগঞ্জের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক পরিতোষ ওরাওঁ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ২০১৬ সালের এসএসসির মেধাতালিকাভুক্ত। ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি থাকলেও তিনি এই মুহূর্তে ছুটিতে। ফলে এই মুহূর্তে ওই স্কুলে শিক্ষক দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি ডিআই-কে জানিয়েছি।’ অস্থায়ীভাবে কোনও শিক্ষককে এই স্কুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।
