উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সফর সেরে দিল্লিতে ফেরার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে তলব করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ শাহের দিল্লির বাসভবনে শুরু হওয়া এই একান্ত বৈঠক নিয়ে রহস্য বজায় রাখলেও বিজেপি সূত্রের খবর, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘সার্জিক্যাল’ কোনও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, অমিত শায়ের বাসভবনে শমীকের সঙ্গে মূলত তিনটি বিষয়ে কথা হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য সভাপতি হওয়ার বেশ কয়েকমাস পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কমিটি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। আরএসএস (RSS) এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ইচ্ছানুযায়ী, নতুন কমিটিতে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ নতুন মুখ আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাঁরা ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রার্থী না হয়ে কেবল সংগঠনের কাজ করবেন।
এদিনের বৈঠকে আলোচন হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় মতুয়া ও শরণার্থীদের ভোটার তালিকা নিয়ে। এদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে শায়ের সফরে একাধিক নালিশ জমা পড়েছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ও মতুয়া নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করতে শমীককে বিশেষ টাস্ক দেওয়া হতে পারে বলে অনুমান। এছাড়াও, মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোতে বুথ এজেন্ট রক্ষা এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুটিকে আন্দোলনের মূল হাতিয়ার করতে শাহ শমীককে বিশেষ গাইডলাইন দিয়েছেন বলে খবর।
বৈঠক শেষে শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি আলোচনার বিষয়বস্তু খোলসা না করলেও তাঁর বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের সুর ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, “অমিত শা ভারতের ইতিহাসের সেরা ভোটকুশলী। অতীতে আমাদের কিছু ভুলত্রুটি ছিল ঠিকই, কিন্তু এবার পশ্চিমবঙ্গ এক অপ্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে নতুন সরকার দেখবে। তৃণমূলের সময় শেষ।”
উল্লেখ্য, শায়ের সফরের পরেই প্রায় ন’মাস দূরে থাকা দিলীপ ঘোষকে আবার রাজ্য দপ্তরে সক্রিয় হতে দেখা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, অমিত শায়ের নির্দেশেই দলের ‘পুরানো ও অভিজ্ঞ’ মুখদের লড়াইয়ের সামনে সারিতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
২০২৬-এর ১৫ এপ্রিলের পর বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ার যে ডাক অমিত শা সায়েন্স সিটি থেকে দিয়েছিলেন, শুক্রবারের এই ‘জরুরি বৈঠক’ সেই সংকল্পকে বাস্তবায়িত করারই প্রথম ধাপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
