উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন-ভারত সম্পর্কের (India-US Relation) এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল রাজধানী। আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে রবিবার দিল্লির ‘ভারত মণ্ডপ’-এ আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই যেন এক ‘টুইস্ট’ চলে এল। অনুষ্ঠানের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োকে। আর সেই ফোন কলের মাধ্যমেই ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থনের বার্তা পৌঁছে দিলেন বিশ্বমঞ্চের অন্যতম প্রভাবশালী এই রাষ্ট্রনেতা।
অনুষ্ঠানের লাউড স্পিকারে ট্রাম্পের কণ্ঠস্বর স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বলেন, ‘‘আমি ভারতকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। মোদি মহান।’’ ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও সরাসরি প্রশংসা উপস্থিত কূটনীতিক ও আমন্ত্রিতদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে।
ট্রাম্প কেবল প্রশংসাতেই থামেননি, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক বর্তমানের মতো এতটা ‘ঘনিষ্ঠ’ আগে কখনও ছিল না। ভারতের উদ্দেশে ট্রাম্পের (Donald Trump) বার্তা, ‘‘আমার এবং আমেরিকার উপর ভারত সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘সাহায্যের প্রয়োজন হলে আপনারা জানেন কাকে ফোন করতে হয়। ভারত যা কিছু চায়, তার সবকিছুই আমাদের কাছে আছে।’’ ভারতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রশ্নেও আমেরিকার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর চার দিনের ভারত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর রবিবার তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
রুবিয়োর দাবি, ভারত ও আমেরিকার এই ‘কৌশলগত জোট’ বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করতে ভারতকে সর্বতোভাবে সাহায্য করার বার্তাও দিয়েছে মার্কিন বিদেশ দপ্তর।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই ফোন কল এবং রুবিয়োর সফর যে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য। বিশ্ব ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ঘনিষ্ঠতা আগামীদিনে দক্ষিণ এশিয়ায় এক শক্তিশালী সমীকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
