উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক যুগের অবসান। রাইসিনা হিলসের লাল পাথরের দালান, যা এতকাল ভারতের ক্ষমতার সমার্থক ছিল, আজ থেকে তা শুধুই ইতিহাস। সাউথ ব্লক ও নর্থ ব্লকের মায়া কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলো সরে এল অত্যাধুনিক ‘সেবা তীর্থ’ (Seva Teerth PMO) এবং ‘কর্তব্য ভবনে’। শুধু ঠিকানা বদল নয়, এই স্থানান্তরকে মোদী সরকার দেখছে ‘শাসক’ থেকে ‘সেবক’ হয়ে ওঠার প্রতীক হিসেবে।
ছন্নছাড়া থেকে এক ছাদের তলায়
এতদিন দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মন্ত্রকগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং লজিস্টিক সমস্যা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। সেই জট কাটাতে ‘সেবা তীর্থ’ কমপ্লেক্সে (১, ২ ও ৩) একই ছাদের তলায় আনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয় এবং ক্যাবিনেট সচিবালয়কে। অন্যদিকে, ‘কর্তব্য ভবন’-এ ঠাঁই পেয়েছে অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণের মতো হাই-প্রোফাইল মন্ত্রকগুলো। সরকারের দাবি, এই ‘কো-লোকেশন’ বা সহাবস্থান সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়াবে এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমাবে।
লক্ষ্য ২০২৯: নতুন দপ্তরে নতুন এজেন্ডা
নতুন ভবনে পা রেখেই সরকার ২০২৯ সালের জন্য বড়সড় লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে, যা বুঝিয়ে দেয় এই পরিকাঠামো কেবল ইট-পাথরের নয়, বরং কাজের গতি বাড়ানোর হাতিয়ার।
- লাখপতি দিদি: নির্ধারিত সময়ের আগেই ৩ কোটির লক্ষ্য পূরণ হওয়ায়, ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করে ৬ কোটি করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
- কৃষি পরিকাঠামো: কৃষকদের ভ্যালু চেইন শক্তিশালী করতে তহবিলের পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে।
- স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ২.০: ডিপ টেক এবং অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং-এ জোয়ার আনতে ১০,০০০ কোটি টাকার নতুন তহবিল গঠন করা হয়েছে।
মিউজিয়াম হবে নর্থ-সাউথ ব্লক
যে অলিন্দে একসময় লর্ড মাউন্টব্যাটেন বা জওহরলাল নেহরু হেঁটেছেন, সেই নর্থ ও সাউথ ব্লক এখন রূপান্তরিত হতে চলেছে ‘যুগে যুগেন ভারত সংগ্রহালয়’-এ। ফ্রান্সের মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির কারিগরি সহায়তায় এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাদুঘর হিসেবে গড়ে উঠবে।
৪-স্টার ‘গৃহ’ (GRIHA) রেটিং প্রাপ্ত এই নতুন ভবনগুলো পরিবেশবান্ধব এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে মোড়া। স্মার্ট অ্যাক্সেস কন্ট্রোল ও ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিলেন্স যেমন নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, তেমনই ‘পাবলিক ইন্টারফেস জোন’ সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি দপ্তরে প্রবেশ সহজ করবে। সব মিলিয়ে, ঔপনিবেশিক ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এক স্বচ্ছ, দ্রুত ও আধুনিক ভারতের প্রশাসনিক ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হল ‘সেবা তীর্থে’।
