দার্জিলিং: মোমো, ক্যাসলটন ফার্স্ট ফ্লাশ চা (Castleton First Flush tea) আর ঐতিহাসিক টয় ট্রেনের যাত্রা—পাহাড়ের কোলে বসে অন্য মেজাজে ধরা দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. সার্জিও গোর (Sergio Gor)। রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার আমন্ত্রণে দার্জিলিং-এর পাহাড়ি জনপদে পা রেখেই স্থানীয় সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের প্রেমে পড়লেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। পাহাড়ি ঐতিহ্য আর কূটনৈতিক বন্ধুত্বের এই মেলবন্ধন দার্জিলিং-এর আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায় যোগ করল।
হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার বাসভবন ‘আইভানহো’ (Ivanhoe)-তে অতিথি হয়ে এসে দার্জিলিং-এর বিখ্যাত সব পদের স্বাদ নেন মার্কিন প্রতিনিধিদল। বিশেষ করে এখানকার ঐতিহ্যবাহী মোমো এবং বিশ্ববিখ্যাত ‘ক্যাসলটন ফার্স্ট ফ্লাশ’ চা মন জয় করে নিয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের। পাহাড়ি জনপদের এই শান্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এরপর মল রোড ধরে হেঁটে এই এলাকার প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার সঙ্গেও পরিচিত হন আমেরিকার এই শীর্ষ কূটনীতিবিদ।
এই সফরের সবচেয়ে আকর্ষক মুহূর্তটি ছিল ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহাসিক ‘হিমালয় রেলওয়ে’ বা টয় ট্রেনে চেপে পাহাড়ি খাঁদ ও বাঁক পেরিয়ে যাত্রার অভিজ্ঞতা। বিশ্বের পর্যটকদের কাছে পাহাড়ের এই জীবন্ত ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখার পর দার্জিলিং-এর ট্যুরিজম পোটেনশিয়াল নিয়ে বিশেষ প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রদূত। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক আমেরিকান পর্যটক যাতে এই পাহাড়ি শহরের টানে ছুটে আসেন, সেই আশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পাশাপাশি, এদিনের সফরে পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণ প্রজন্ম ও পড়ুয়াদের সঙ্গেও খোলামেলা মতবিনিময় করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে যুবসমাজের অবদান এবং আন্তর্জাতিক স্তরে যোগাযোগের গুরুত্ব নিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেখে তিনি অভিভূত। পাহাড়ের মানুষ আর সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি মিশে যাওয়ার এই কূটনীতি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও অনেক বেশি জনমুখী করে তুলল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

