উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লির প্রতিবাদী জমায়েত এবং তার জেরে জনজীবন স্তব্ধ হওয়া নিয়ে কঠোর অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (SC on Delhi Protest)। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার একটি বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, যে কোনও নির্দিষ্ট স্থানে লাগাতার বা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া যায় না। এমনকি বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলির ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আবশ্যক। বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য সংগঠনের তরফে নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে সম্প্রতি রামলীলা ময়দান ও গত মাসে যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) যে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানিপর্বেই এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে উপস্থিত হয়ে শীর্ষ আইনজীবীরা জানান যে, বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া আয়োজকদেরই তার সমস্ত পরিণতির দায়ভার নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, বিগত প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত অনুমতি কেবল একদিনের হলেও তা লঙ্গন করে দীর্ঘদিন জায়গা দখল করে রাখা হয়েছিল, যা আইনসম্মত নয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিবাদ করার অধিকার সকলেরই রয়েছে, তবে তা যেন অন্য নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বা জীবিকার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। কৃষকদের আন্দোলন হোক কিংবা আইনজীবীদের কাজ, সকলেরই সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির দায়ের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কাছে জবাব তলব করেছে। উৎসবের মরশুমে এই ধরনের লাগাতার বিক্ষোভের ফলে বাণিজ্য মার খাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ তোলে ব্যবসায়িক মহল। আদালতের বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে নির্দেশ দেয় যে, ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার দাবি তোলা ব্যবসায়ীদের উচিত সংশ্লিষ্ট বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আয়োজকদেরও এই আইনি মামলায় পক্ষভুক্ত করা। প্রসঙ্গত, এর আগে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের তরফে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে যে আবেদন দাখিল করা হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেও আদালত নোটিশ জারি করেছিল।

