উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আয়োজিত সমাবেশে ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণের (Savar Blast) ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনৈতিক অঙ্গন। সোমবার রাতে ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’র (July Revolution) সমাপনী জনসভায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে অন্তত চারজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। দলটির নেতৃত্বের অভিযোগ, বর্তমান বিএনপি (BNP) সরকারের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদতেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
২০২৪-এর কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল সংগঠকদের হাত ধরে গঠিত রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার রাতে ঢাকা ও এর আশপাশে ‘জুলাই পদযাত্রা’র ডাক দেয়। মিছিল শেষে সাভার এলাকায় আয়োজিত জনসভায় যখন দলের প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ ও প্রধান সমন্বয়ক তথা বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম উপস্থিত হন, ঠিক তখনই মঞ্চের সামনের ভিড়ের মধ্যে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে।
এনসিপি নেতৃত্বের দাবি, হামলাকে সফল করতে পরিকল্পিতভাবে সভা শুরুর মুখেই পুরো এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এনসিপি নেতা-কর্মীদের সশরীরে ‘খুনের চেষ্টা’ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছে দলটি।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই চারজন কর্মী গুরুতর জখম হন। আহতরা হলেন— মহম্মদ শাহীন খন্দকার (৩০), মহম্মদ জসিম (২৬), মহম্মদ শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমরান হোসেন। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত সাভারের বেসরকারি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই হামলার প্রতিবাদে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত সাভার থানার সামনে এবং ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালায় এনসিপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলে গভীর রাতে বিক্ষোভকারীরা এলাকা ছাড়েন।
হামলার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam) সমাজমাধ্যমে লেখেন, “এনসিপির পদযাত্রায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ঠেকাতে এই পরিকল্পিত হামলা করা হয়েছে। তবে এ ধরনের হামলা করে জুলাই জাগরণ থামানো যাবে না।” তিনি সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “আজকের এই ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে।”
প্রশাসনকে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভয়ভীতি ও বোমাবাজি উপেক্ষা করেই তাঁদের এই আন্দোলন চলবে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের সখীপুরে ‘জুলাই পদযাত্রা’ যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এনসিপি-র এই কর্মসূচি মূলত ছিল আওয়ামী লীগ বিরোধী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ‘জুলাই সনদ’ ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে বর্তমান বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধেও খড়্গহস্ত হয়েছে দলটি। এনসিপি এবং সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ— বিএনপি সরকার পিছনের দরজা দিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা করছে। দুই দলেরই হুঁশিয়ারি, সঠিক পথে না চললে বিএনপিকেও অচিরেই শেখ হাসিনার মতো গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে। আর সেই রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই সোমবার রাতের ঘটনায় সরাসরি বিএনপি প্রশাসনের দিকেই আঙুল তুলেছে এনসিপি।

