Saudi Arabia Snowfall ​| মরুভূমিতে তুষারপাত! ভারতের জন্য ভয়ংকর অশনিসংকেত?

Saudi Arabia Snowfall ​| মরুভূমিতে তুষারপাত! ভারতের জন্য ভয়ংকর অশনিসংকেত?

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সৌদি আরবের তপ্ত বালুকণা ঢেকে গিয়েছে সাদা বরফের চাদরে (Saudi Arabia Snowfall)। তাবুক (Tabuk) এবং জাবাল আল-লজ (Jabal Al-Lawz) অঞ্চলের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে, কোথাও কোথাও মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-4°C) পর্যন্ত নেমে গেছে। ইন্টারনেটে উটের পিঠে বরফ জমার দৃশ্য দেখে অনেকে মুগ্ধ হচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু আবহাওয়াবিদদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। মরুভূমিতে এই বিরল তুষারপাত আসলে প্রকৃতির এক ভয়ংকর ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ, যা ভারতের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা।

​কেন এই অস্বাভাবিক তুষারপাত? 

বিজ্ঞানীরা একে ‘ওয়ার্মিং প্যারাডক্স’ বা উষ্ণায়নের বিভ্রম বলে অভিহিত করছেন। মেরু অঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা অতিশীতল বাতাস (Polar Vortex) এবং আরব সাগর থেকে উঠে আসা আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বায়ুমণ্ডল এখন অনেক বেশি আর্দ্রতা ধারণ করতে পারে, যা চরম আবহাওয়ার (Excessive Climate Occasions) জন্ম দিচ্ছে। অর্থাৎ, উষ্ণায়ন মানে শুধু গরম নয়, বরং যখন তখন চরম বৃষ্টি, বন্যা বা মরুভূমিতে তুষারপাতের মতো ঘটনা।

ভারতের জন্য কেন এটি বড় বিপদ?

সৌদির এই ঘটনা ভারতের জন্য কোনও রোমাঞ্চকর খবর নয়, বরং এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের পূর্বাভাস। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান বলছে, ভারত এখন কার্যত এক ‘জলবায়ু বিপর্যয়’ বা Local weather Emergency-র মধ্য দিয়ে যাচ্ছে (India Local weather Emergency)। ২০২৫ সালের প্রথম ৩৩৪ দিনের মধ্যে ৩৩১ দিনই ভারতের কোনও না কোনও প্রান্তে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ, বছরের প্রায় প্রতিদিনই কোথাও তাপপ্রবাহ, কোথাও বন্যা, আবার কোথাও ধস নেমেছে।

এই বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে চরম আবহাওয়ার কারণে ভারতে ৪,৪১৯ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ অকল্পনীয়—প্রায় ১ কোটি ৭৪ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ২০২২ সালে যা ছিল মাত্র ১৯.৬ লক্ষ হেক্টর, তা ২০২৫-এ এসে প্রায় ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতে এখন শীতকালেও তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে। ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারিতে ছিল রেকর্ড গরম, আবার বর্ষাকালে ১৪৭টি জেলায় খরা দেখা দিয়েছে যখন বাকি দেশ বন্যায় ভাসছিল। হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টি এখন নিত্যদিনের ঘটনা।

রিপোর্ট অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের এই ধাক্কায় ভারত ২১০০ সালের মধ্যে তার জিডিপি-র (GDP) ৬ থেকে ১০ শতাংশ হারাতে পারে। এখনই ভারত তার জিডিপি-র প্রায় ৫.৬ শতাংশ খরচ করছে শুধুমাত্র জলবায়ু অভিযোজন বা Adaptation-এর জন্য। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই পরিস্থিতির মোকাবিলা না করলে প্রায় ৫ কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে।

সৌদির মরুভূমিতে বরফ পড়া আসলে প্রকৃতির চিৎকার। এটি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে আমাদের চেনা ঋতুচক্র ভেঙে পড়েছে। ভারতের জন্য এখন আর ‘মিটিগেশন’ বা কার্বন কমানোর আলোচনা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কঠোর প্রস্তুতি। কারণ, জলবায়ু সংকট এখন আর দরজায় কড়া নাড়ছে না, তা ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *