গঙ্গারামপুর: সদ্য সমাপ্ত হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে হ্যাটট্রিক জয় সম্পূর্ণ হতেই ফের জনসংযোগে নেমে পড়লেন গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায় (Satyendranath Roy Gangarampur)। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়াতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ গঙ্গারামপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক বিশেষ “চায়ে পে চর্চা” কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। ফলাফল ঘোষণার পর বিধায়কের এই আকস্মিক জনসংযোগকে ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
কর্মসূচির শুরুতেই গঙ্গারামপুর (Gangarampur) বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের বিজেপির প্রতি অবিচল আস্থা রাখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান সত্যেন্দ্রনাথবাবু। এরপরই শুরু হয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর খোলামেলা মতবিনিময়। ভোটের লড়াই শেষ হতেই এবার এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা, থমকে থাকা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন তিনি।
এদিনের আলোচনা চত্বরে গঙ্গারামপুরের বাসিন্দারা বিধায়কের সামনে একগুচ্ছ বড় দাবির কথা তুলে ধরেন। শহরের নিত্যদিনের যানজট জটলা থেকে মুক্তি পেতে একটি আধুনিক উড়ালপুল (Flyover) নির্মাণের দাবি জানান স্থানীয়রা। পাশাপাশি বড়বাজার এলাকায় পুনর্ভবা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ, একটি আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ে তোলা এবং গঙ্গারামপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জোরালো প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, নারীশিক্ষার প্রসারে বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায় নিজেই গঙ্গারামপুরে একটি স্বতন্ত্র মহিলা কলেজ স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
জনগণের সমস্ত দাবি শোনার পর ইতিবাচক আশ্বাস দিয়ে বিধায়ক বলেন, “আগামী এক বছরের মধ্যেই গঙ্গারামপুরের বুকে একগুচ্ছ দৃশ্যমান উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই আমার প্রথম অগ্রাধিকার।” এর পাশাপাশি এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতে একটি নেশামুক্ত সমাজ গড়ারও ডাক দেন তিনি। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর এই নতুন রাজনৈতিক আবহে গঙ্গারামপুরকে সম্পূর্ণ নতুন মডেলে সাজিয়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
