শিলিগুড়ি: শহরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং পুর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একযোগে ক্ষোভ উগরে দিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ (Sankar Ghosh)। শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তোলেন বিধায়ক।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর শংকর ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, দমকল কর্মীদের কাজে একাধিক ত্রুটি লক্ষ্য করা গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, আগুন নেভানোর সময় জলের পর্যাপ্ত ফোর্স ছিল না। এমনকি দমকল চলে যাওয়ার পরও কিছু আলমারির ভেতরে আগুন ও ধোঁয়া রয়ে গিয়েছিল, যা পরে বাড়ির লোকজনকেই বিপজ্জনকভাবে সামলাতে হয়। বিধায়কের দাবি, শহর পরিচালনার ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি পুর নিগমের কর্তাদেরও দক্ষতার অভাব স্পষ্ট।
শহরজুড়ে গজিয়ে ওঠা বহুতল নিয়ে এদিন উদ্বেগ প্রকাশ করেন শংকর। তিনি অভিযোগ করেন, শিলিগুড়িতে অনেক ক্ষেত্রেই ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ ও ‘ফায়ার লাইসেন্স’ ছাড়াই বিল্ডিং নির্মাণ হচ্ছে। ঘিঞ্জি বাজার এবং ক্রমবর্ধমান হাই-রাইজ বিল্ডিংয়ের সুরক্ষায় দমকল বিভাগের যে আধুনিকীকরণের প্রয়োজন ছিল, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, “শিলিগুড়ির মতো মেট্রোপলিটন শহরে দমকলকে আরও তৎপর ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ হতে হবে।”
শংকর ঘোষ আরও যোগ করেন যে, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা দমকল কর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও উন্নত সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে কেবল রাজনীতির খাতিরে সমালোচনা না করে, প্রশাসনকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয় রুখতে এখন থেকেই পরিকাঠামো উন্নয়ন ও দায়িত্বশীল শহর পরিচালনা প্রয়োজন।
