নয়াদিল্লি: বয়সের ব্যবধান অনেকটা। দুজন দুই প্রজন্মের। তবে আশিস নেহেরা ও ঋষভ পন্থের ‘গুরু’ এক, প্রয়াত তারক সিনহা। সেই সুবাদে প্রথম থেকেই ঋষভের দক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন নেহেরা। জহুরির চোখে ধরা পড়েছিল ঋষভের স্পেশাল প্রতিভা।
ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারকে তা জানিয়ে ছিলেন নেহেরা। বলেছিলেন, ছেলেটাকে দেখে রাখ। ভারতীয় ক্রিকেটের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠবে। বাকিটা ইতিহাস। ঋষভকে নিয়ে স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে বাঙ্গার বলেছেন, ‘আশিস নেহেরার থেকে ঋষভের কথা শুনেছিলাম। বলেছিল দারুণ খেলোয়াড়। সহজাত প্রতিভা। আলাদা করে বলেছিল ঋষভের ভয়ডরহীন ক্রিকেটের কথা। প্রথমবার যখন ওকে নেটে দেখি, তা ভালোমতো টের পেয়েছিলাম।’
নিজের জন্য সবসময় চ্যালেঞ্জ রাখতে ভালোবাসে ঋষভ। নেটে বোলারদের বলত, আরও জোরে শরীর লক্ষ্য করে বল করতে! বাঙ্গারের কথায়, এহেন মানসিকতা খুব কমজনের মধ্যে রয়েছে। নেহেরার পর্যবেক্ষণ কতটা সঠিক ছিল, তা প্রতিপদে বুঝিয়েছে ঋষভ। ঋষভের আগমনে ইতি পড়েছিল দীর্ঘদিন ধরে ৫ নম্বরে ব্যাট করতে পারে এমন একজন উইকেটকিপারের খোঁজ।
শুভমান গিলকে নিয়েও অজানা গল্প। প্রকাশ্যে জানালেন, সবাইকে চমকে দিয়ে কীভাবে রবি শাস্ত্রী প্রথম এগারোয় শুভমানকে খেলিয়েছিলেন। আর যার নেপথ্যে ছিলেন বিরাট কোহলিও। ২০১৯ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওডিআই অভিষেক ঘটে শুভমানের। নেটে শুভমানকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন বিরাট-শাস্ত্রী দুজনেই।
বাঙ্গার বলেছেন, ‘বিরাট এসে বলে, নেটে শুভমানকে ব্যাট করতে দেখলাম। দুর্দান্ত। ১৯ বছর বয়সে আমি ওর দশ শতাংশও ছিলাম না। কোচ রবি তো বলেই দেয় এখনই শুভমানকে খেলানো উচিত। আমরা সবাই বুঝে গিয়েছিলাম স্পেশাল ট্যালেন্ট পেয়ে গিয়েছি।’
বিরাটের ‘অ্যাংরি ইমেজ’-এর প্রসঙ্গও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। বাঙ্গারের কথায়, বিরাটের এই মেজাজটা সহজাত। প্রতি পদক্ষেপে যা প্রতিফলিত হয়। ১৯৭৫-১৯৮০ সালে বলিউডি সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের যে ইমেজ সাফল্যের বিজয়রথ ছুটিয়েছিল। বাঙ্গারের যুক্তি, ভারতীয় তরুণ প্রজন্মের আগ্রাসী মেজাজ সহজাত। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রাহুল দ্রাবিড়, শচীন তেন্ডুলকার, ভিভিএস লক্ষ্মণদের অবসরের পর শূন্যতা পূরণে কোহলির মতো একজন অ্যাংরি ইমেজের কাউকে দরকার ছিল। আগ্রাসী মেজাজকে সঙ্গে নিয়েই দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। বদলে দিয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার মানসিকতা।
