শিলিগুড়ি: এক রাতের খাবারেই যেন ওলটপালট হয়ে গেল গোটা পরিবার। শিলিগুড়ির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাড়িতে রাতের খাবার খাওয়ার পর রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হলো দুই বোনের। মৃত দুই বোনের নাম অঞ্জলি দাস (১৭) এবং নন্দিনী দাস (Sisters loss of life thriller)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমেছে গোটা এলাকায়। বর্তমানে তাদের মা তালা কুমারী দাস আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে দুই মেয়ে ও মা একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়েছিলেন। মেনুতে ছিল রুটি ও আলু-পেঁয়াজ ভাজা, যা বড় মেয়ে অঞ্জলিই রান্না করেছিল। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। প্রবল বমি ও তীব্র অসুস্থতা নিয়ে তাদের দ্রুত একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে ছোট মেয়ে নন্দিনীর মৃত্যু হয়। বুধবার ভোররাতে ১৭ বছর বয়সী বড় মেয়ে অঞ্জলিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা। কর্মসূত্রে ইন্দোরে থাকা বাবা এবং ভাই আজ সকালে খবর পেয়েই বাড়িতে পৌঁছান। পরিবারের এমন শোকাবহ পরিস্থিতিতে তাঁদের কান্না থামানোই দায় হয়ে পড়েছে। কী থেকে এই বিপর্যয়—ফুড পয়জনিং নাকি অন্য কোনো কারণ, তা নিয়ে বিভ্রান্ত পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
শব ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে আজ দুপুরে দেহ বাড়িতে ফিরে আসতেই শেষবারের মতো দেখার জন্য ভিড় জমান স্থানীয়রা। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অনিতা মাহাতো জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।” পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর রহস্য পরিষ্কার হবে।

