বিশ্বজিৎ প্রামাণিক,কুমারগঞ্জ: প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আত্রেয়ী নদীর চর থেকে দেদার বিকোচ্ছে বালি। আর এই বেআইনি বালি পাচারকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল পতিরাম থানার অন্তর্গত বর্ষাপাড়া এলাকা। বালি মাফিয়াদের (Sand Mafia) দৌরাত্ম্য রুখতে এদিন বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়ে যে, বালি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের চরম বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ ও মাফিয়াদের হুমকি
বিক্ষোভকারীদের দাবি, দিনের আলো থেকে রাতের অন্ধকার— সমানে আত্রেয়ী নদীর বুক চিরে বালি তোলা হচ্ছে। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কার পাশাপাশি চরম ক্ষতি হচ্ছে স্থানীয় রাস্তাঘাটের। বর্ষাপাড়ার বাসিন্দা মিলন মুর্মু অভিযোগ করেন, ভারী বালি বোঝাই ট্রাক চলার কারণে রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো লাভ হয়নি। উলটে প্রতিবাদ করায় তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
‘বারুদে’ ঠাসা বর্ষাপাড়া!
উল্লেখ্য, এই চরকে কেন্দ্র করে অশান্তি নতুন কিছু নয়। অতীতেও বালি তোলাকে কেন্দ্র করে এখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, চরের গাছে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগও উঠেছিল। বর্তমানে পতিরামের বর্ষাপাড়া এবং বোল্লা পঞ্চায়েতের হরিহরপুর এলাকায় বালি চুরির এই ‘টানাপোড়েন’ এখন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশাসনের আশ্বাস বনাম বাস্তবতা
এই বিষয়ে বালুরঘাট ভূমি দপ্তরের আধিকারিক রণেন্দ্রনাথ মণ্ডল জানিয়েছেন, অবৈধ বালি উত্তোলন রুখতে প্রশাসনের তরফে লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রশাসনের এই আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না গ্রামবাসী। তাঁদের প্রশ্ন, লাগাতার অভিযানের দাবি করা হলেও কীভাবে পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে প্রতিদিন বালি বোঝাই ট্রাক পার হচ্ছে? এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত কোনো স্থায়ী সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
