উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : ২৪ ঘণ্টা আগে ডায়মন্ড হারবারের ফলতায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার ঠিক পরদিনই, সেই ফলতার মাটি থেকেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) উদ্দেশ্যে নজিরবিহীন ‘উপহাস’ ও কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। ক্ষমতা বদলের পর রাজ্যে ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবির প্রসঙ্গ টেনে শমীক সরাসরি আহ্বান জানালেন, অভিষেক যেন ফলতায় এসে প্রচার করেন। একই সঙ্গে তৃণমূলনেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্থানীয় সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশ্যেও কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন তিনি।
আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন। শনিবার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে সভা করে শুভেন্দু অধিকারী ১ লক্ষ ভোটে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছিলেন। রবিবার শমীক ভট্টাচার্য সেই ব্যবধান সোয়া ১ লক্ষে নিয়ে যাওয়ার দাবি করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র খোঁচা দেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ নেই, তাই নেতা নেই! কনভয় নেই, তাই হুঙ্কার নেই! আমরা তো বলছি, আপনি ফলতায় আসুন, জাহাঙ্গিরের হয়ে প্রচার করুন। আমাদের কর্মীরা এবং জেলা সভাপতি ফুল-শাঁখ নিয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবেন। হে বীর তোমার আসন পূর্ণ করো… তোমাকে আমরা ভীষণ মিস্ করছি, তুমি এসো।’
বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, ‘গত লোকসভা নির্বাচনে এই ফলতা থেকেই অভিষেক ১ লক্ষের বেশি ভোটের লিড পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু এবার রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের সেই সোনার টুকরো ভাইদের সোনার সংসার ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। এমনকি জাহাঙ্গির খানের সমর্থনে প্রচার করার মতো কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
ফলতার জনসভা থেকে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বার্তা দেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানান, সাধারণ মুসলিমদের সঙ্গে বিজেপির কোনো বিরোধ নেই, তবে তাঁরা যেন কোনো ‘শাহজাহান’ বা ‘বাবরের’ পরিচয়ে পরিচিত না হন। কড়া সুরে তিনি বলেন, ‘খালি মনে রাখবেন, এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী। পদ্মফুলের ওপর বসিয়ে মানুষ যাঁকে নবান্নে পৌঁছে দিয়েছেন। আর যাঁরা এখনও বাড়াবাড়ি করছেন, দয়া করে আমাদের আপনাদের ভাষায় কথা বলতে বাধ্য করবেন না।’
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, ‘যারা আগে ডিজে বাজানোর হুমকি দিতেন, আজ তারা ঘরের ভেতরে ‘শ্যাডো প্র্যাকটিস’ করছেন।’ তবে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল আর কোনোদিন বাংলায় ফিরবে না দাবি করে শমীকের রসাল টিপ্পনী, “গঙ্গার জল রাইটার্সের দোতলায় পৌঁছোতে পারে, আকাশ নবান্নে নেমে আসতে পারে, এমনকি একেন বাবুর মাথায় চুলও গজাতে পারে— কিন্তু তৃণমূল আর ক্ষমতায় ফিরবে না।”
