নয়াদিল্লি: ভারতের ইতিহাসকে নতুন আঙ্গিকে লেখার চেষ্টা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর চাপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিশিষ্ট লেখক সলমন রুশদি (Salman Rushdie)। ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারতে ক্রমবর্ধমান হিন্দু জাতীয়তাবাদ এবং মুসলমানদের ‘নেতিবাচক রূপে’ উপস্থাপন করার প্রবণতা তাঁকে চিন্তিত করছে।
রুশদি বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে খুব চিন্তিত। ভারতে আমার অনেক বন্ধু আছে। সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী ও বিদ্বজ্জনদের স্বাধীনতার ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে সবাই উদ্বিগ্ন। তার কারণ, দেশে ভিন্নমত ও মুক্ত চিন্তার পরিসর সংকুচিত হচ্ছে।’
ভারতের পরিচয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বদলে ফেলার প্রয়াসের কথাও উল্লেখ করেন বুকারজয়ী লেখক। রুশদির ভাষায়, ‘দেশের ইতিহাসকে নতুন করে লেখার এক ইচ্ছা দেখা যাচ্ছে— মূলত বলতে চাওয়া হচ্ছে হিন্দুরা ভালো, আর মুসলিমরা খারাপ। যেটাকে সাহিত্যিক ভিএস নইপল বলেছিলেন ‘উন্ডেড সিভিলাইজেশন’। সেই প্রকল্প এখন বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।’
রুশদির মতে, লেখকের দায়িত্ব হল সময়ের সংকেত পড়া এবং তিনি বহু বছর ধরেই সেই সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন। ১৯৮৮ সালে ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পর থেকেই রুশদির জীবন মৌলবাদী হুমকির মুখে। ওই বছরেই রাজীব গান্ধির জমানায় রুশদির সেই উপন্যাস ভারতে নিষিদ্ধ হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।
২০২২ সালের অগাস্টে নিউ ইয়র্কে বক্তৃতা দেওয়ার ঠিক আগে রুশদি হামলার শিকার হন। পরে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় হামলাকারী হাদি মাতারকে।
