উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পড়াশোনা করতে গিয়ে পরিস্থিতির শিকার হয়ে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে নামতে বাধ্য হয়েছিলেন গুজরাতের এক যুবক। সেই সাহিল মোহাম্মদ হুসেন (Sahil Mohammad Hussain) এখন ইউক্রেনীয় বাহিনীর কবজায়! সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে মাদকের মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছিল। মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার শর্ত হিসেবে তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করে পুতিন প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় রাশিয়ায় যান সাহিল। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি কুরিয়ার সংস্থায় পার্ট-টাইম কাজ করার সময় কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়। জেল থেকে বাঁচতে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হন।
মাত্র ১৫ দিনের প্রশিক্ষণের পর তাকে সরাসরি ফ্রন্টলাইনে বা সম্মুখ সমরে পাঠিয়ে দেয় রাশিয়া। ফ্রন্টলাইনে পৌঁছানো মাত্রই সাহিল নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
সাহিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন পুতিনের সঙ্গে কথা বলে তার দ্রুত দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। সাহিলের মা ইতিমধেই দিল্লি হাই কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছেন, যার পরবর্তী শুনানি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে।
বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। সরকার রাশিয়ায় আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধার করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। নাগরিকদের পুনরায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যেন কোনোভাবেই রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রলোভনে পা না দেন।
এই প্রসঙ্গে সাহিল মোহাম্মদ হুসেন বলেন, “আমি হতাশ, জানি না আমার ভাগ্যে কী আছে। কিন্তু ভারতীয় তরুণদের উদ্দেশে বলছি—সাবধান! রাশিয়ায় অনেক প্রতারক চক্র ঘুরছে যারা আপনাদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে সেনাবাহিনীতে পাঠাতে পারে।”
