উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই জল্পনাই ঘুরপাক খাচ্ছিল। মঙ্গলবার খোদ দল থেকে বহিষ্কৃত এই বিধায়ক সেই জল্পনা উড়িয়ে দিলেও, বিধানসভা থেকে বেরনোর সময় তাঁর একটিমাত্র মন্তব্য, ‘কাল কী হবে জানি না!’ নতুন করে রহস্য দানা বাঁধল ঘাসফুল শিবিরে (TMC Controversy)। জল্পনা ওড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়কের এই ইউ-টার্ন রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এদিন বিধানসভায় ঢোকার মুখে হোটেলে বিধায়কদের নিয়ে গোপন বৈঠকের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ঋতব্রত। নিজের ‘টাওয়ার লোকেশন’ পরীক্ষা করার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন তিনি। তবে জল্পনা ওড়ানোর পাশাপাশি দলের ‘নতুন কর্পোরেট স্টাইল’ নিয়ে নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এবং নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-কে তীব্র নিশানা করেন।
বিধানসভার সাম্প্রতিক ‘সই-কাণ্ড’ নিয়ে খোঁচা দিয়ে ঋতব্রত বলেন, ‘ক্যামাক স্ট্রিটের ক্রাউন প্রিন্সের অফিসের অনেকের চাকরি চলে গেছে। তাঁদের আবার ব্যাক-ডেটে গিয়ে রেজিগনেশন দিতে হয়েছে। বোঝাই যায়, এইভাবে সই করানোটা নতুন কর্পোরেট স্টাইলের তৃণমূলের ডিএনএ-তে রয়েছে।’ দল বহিষ্কার করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আনুগত্য যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা এদিনও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ঋতব্রত। তাঁর কথায়, ‘মমতাই আমার নেত্রী।’ তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর বজায় রেখে তিনি জানান, বিধানসভার চিঠির বিষয়ে তিনি কেবল নিজের এবং সন্দীপন সাহার দায় নিতে পারেন, অন্য কারও নয়।
এদিকে, রথীন ঘোষ বা শিউলি সাহার মতো প্রথম সারির বিধায়কদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের কথা ঋতব্রত নিজেই স্বীকার করায়, ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের যে জল্পনা তাপস রায়ের পোস্টের পর থেকে শুরু হয়েছিল, তা এখনই থামছে না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘কাল কী হবে’— এই প্রচ্ছন্ন বার্তার আড়ালে আসলে শাসক শিবিরের ওপর চাপ বজায় রাখারই কৌশল নিচ্ছেন ঋতব্রতরা।
