উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন: দলের নাম সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। অথচ দলে নেই প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। সোমবার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়ের সাক্ষী থাকল বাংলার মানুষ। নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করে এক নতুন জাতীয় কমিটি (Nationwide Working Committee) ঘোষণা করল দলের বিক্ষুব্ধ অংশ। আর সেই নতুন কমিটিতে দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা এতদিনকার সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্পূর্ণ ‘আউট’ করা বা বাদ দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে নতুন কমিটির ‘চেয়ারম্যান’ করা হয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিস্ফোরক ঘোষণা করেন নতুন কমিটির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)।
সোমবারের এই সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, “সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের স্পেশাল সেশনে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সর্বসম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা অত্যন্ত পরিষ্কার।” দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহারের আইনি দিক নিয়ে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন (Election Fee) সহ সমস্ত সংশ্লিষ্ট জায়গায় টেকনিক্যাল বিষয়গুলি আইন মেনেই জানানো হবে। মঙ্গলবার থেকেই এই নতুন তৃণমূলের ‘রাজ্য কমিটি’ গঠনের কাজ শুরু হবে এবং দলের মুখপাত্রদের নাম ঘোষণা করা হবে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকের শেষভাগে প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘চার্টার্ড অভিষেক’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক কে? যে চোর পিটুনি খায়। তাঁকে নিয়ে সময় ব্যয় করতে নারাজ আমি।”
ঋতব্রতদের ঘোষিত নতুন জাতীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন রাজ্যের একাধিক পরিচিত মুখ। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক নতুন কমিটির বিন্যাস:
- চেয়ারম্যান: অরূপ রায় (বিধায়ক, মধ্য হাওড়া)
- ভাইস প্রেসিডেন্ট: ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ।
- সাধারণ সম্পাদক: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন।
- কোষাধ্যক্ষ: আখতারুজ্জামান।
- জাতীয় কর্মসমিতিতে আছেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দীপন সাহা, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান কাজল শেখ সহ ৩০ জন সদস্য।
যদিও সোমবারের বৈঠককে গুরুত্ব দিতে নারাজ বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। মমতার কালীঘাটের বাড়ি থেকে বৈঠক সেরে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের যা কাঠামো, তাতে এগুলি করার এক্তিয়ার ওঁদের নেই।’

