উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। চিঁড়ে-মুড়ি কিংবা ভাতের জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে ওট্স, চিয়া সিড কিংবা রাগি-জোয়ারের মতো খাবার। বিশেষ করে সকালের স্মুদি থেকে দুপুরের খিচুড়ি—সবক্ষেত্রেই ওট্সের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভাতের বদলে ওট্স খাওয়া কতটা যুক্তিপূর্ণ?
১০০ গ্রাম সাদা ভাতের ক্যালোরি প্রায় ১৩০-১৫০ কিলোক্যালোরি, যেখানে সমপরিমাণ ওট্সে ক্যালোরির মাত্রা প্রায় ৩৫০ কিলোক্যালোরি। তবে ওট্স ভাতের চেয়ে অনেক বেশি ভারী খাবার হওয়ায় সামান্য পরিমাণেই পেট দীর্ঘক্ষণ ভর্তি থাকে।
-
ফাইবার ও কার্বোহাইড্রেট: সাদা ভাতে ফাইবারের পরিমাণ নগণ্য। অন্যদিকে, ওট্স ফাইবারে ভরপুর, যা হজমে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ভাতে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা বেশি এবং এটি ‘সিম্পল কার্বোহাইড্রেট’ হওয়ায় রক্তে চিনির মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
-
খনিজ উপাদান: ভাতে সামান্য আয়রন বা ক্যালশিয়াম থাকলেও ওট্স আয়রন, কপার, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্কের মতো জরুরি খনিজে সমৃদ্ধ।
-
প্রোটিন ও ফ্যাট: ভাত বা ওট্স কোনটিই প্রোটিন সমৃদ্ধ নয়। তবে ভাতের তুলনায় ওট্সে ফ্যাটের মাত্রা সামান্য বেশি হলেও তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক নয়।
পুষ্টিবিদদের সতর্কতা: পুষ্টিবিদদের মতে, গুণের বিচারে ওট্স এগিয়ে থাকলেও পুরোপুরি ভাত বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সকালে ওট্স খেলে দুপুরে পরিমিত পরিমাণে ভাত খাওয়াই যায়। তবে হুট করে ডায়েট থেকে ভাত সরিয়ে ওট্স শুরু করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ওট্সে ফাইবার বেশি থাকায় অনেকের বদহজম হতে পারে। তাই প্রথম দিকে অল্প করে ওট্স খেয়ে অভ্যাস করা জরুরি।
ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ওট্স নিরাপদ কারণ এর গ্লাইসেমিক লোড মাঝারি। তবে ইনস্ট্যান্ট সুগন্ধযুক্ত ওট্সের চেয়ে রোল্ড বা স্টিলকাট ওট্স বেশি স্বাস্থ্যকর।
