উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah)। সেই সময়সীমার আগেই বড়সড়ো সাফল্যের দাবি করল বিহার পুলিশ (Bihar Police)। বুধবার মাওবাদী শীর্ষ নেতা সুরেশ কোড়া ওরফে মুস্তাকিমের আত্মসমর্পণের পরই বৃহস্পতিবার পুলিশ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল— ‘বিহার এখন সম্পূর্ণ মাওবাদীমুক্ত’ (Bihar declared Maoist free)।
এসটিএফ-এর জালে ৬০ মামলার আসামি
বিহার পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF)-এর কাছে মুঙ্গেরে আত্মসমর্পণ করেছেন সুরেশ কোড়া। তার বিরুদ্ধে ৬০টির মামলা ঝুলছিল। দীর্ঘদিন ধরেই বিহার পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল সে, তাঁর মাথার দাম ছিল ৩ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণের সময় কোড়ার কাছ থেকে তিনটি অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, বিপুল পরিমাণ কার্তুজ, ম্যাগাজিন এবং নগদ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুনর্বাসন প্যাকেজের হাতছানি
বিহার সরকারের ‘আত্মসমর্পণ সহ পুনর্বাসন যোজনা’র অধীনে সুরেশ কোড়াকে একগুচ্ছ আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা দেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথার দাম হিসেবে নির্ধারিত ৩ লক্ষ টাকা পুনর্বাসনের কাজে তাকে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা এবং তিন বছর মেয়াদী বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন এই প্রাক্তন মাওবাদী নেতা। মূলত সমাজের মূল স্রোতে ফিরতেই এই পুনর্বাসন প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছে সে।
২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রার পথে বড় ধাপ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সারা দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার ডাক দিয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড ও বিহারে নিরাপত্তাবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল মাওবাদী সংগঠনগুলি। অনেক শীর্ষ নেতা এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে, আবার কেউ কেউ আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছে। বিহার পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সুরেশ কোড়ার আত্মসমর্পণের ফলে রাজ্যে মাওবাদী সংগঠনের কোমর পুরোপুরি ভেঙে গেল।
