নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট: ভেসে যাওয়া ১০টি গন্ডার উদ্ধারের সাফল্য নিয়ে একদিকে বনকর্তারা যেমন খুশি, তেমনি তাঁরা চিন্তিত এই গন্ডারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কারণ কোন গন্ডার (Rhino) কোন এলাকার ছিল এটা জানা সম্ভব হয়নি বনকর্মীদের পক্ষে। উদ্ধার করার পর জলদাপাড়া ও চিলাপাতা জাতীয় উদ্যানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এদের। ফলে এলাকা দখল নিয়ে অন্যান্য গন্ডার কিংবা পশুদের সঙ্গে ধুন্ধুমার লড়াই বেধে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এতে জখম কিংবা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণ সংরক্ষক ডঃ নবিকান্ত ঝা বলেন, ‘এতগুলি গন্ডারকে উদ্ধার ভারতে আগে কখনও হয়েছে কি না জানা নেই। তবে কোন গন্ডার কোন জঙ্গলের, তা জানা সম্ভব ছিল না। এলাকার দখল নিয়ে তাদের মধ্যে লড়াই বাধতেই পারে।’ আরও একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে চিন্তিত বনকর্তারা। কারণ, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি পলিমাটির নীচে চলে গিয়েছে, বিশেষ করে যেসব জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির ঘাস লাগানো হয়েছিল। বৃষ্টি না হলে সেখানে পলিমাটি সরে নতুন করে ঘাস গজাতে সময় লাগবে। ফলে যেসব এলাকায় বর্তমানে ঘাস রয়েছে, সেখানে তৃণভোজী প্রাণীদের ভিড় মারাত্মক বেড়ে যাবে। এরফলেও হাতি, গন্ডার, বাইসন ও হরিণের মধ্যে লড়াই বাধার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে নবিকান্তর বক্তব্য, নতুন প্ল্যান্টেশনের প্রায় ১৫০ হেক্টর এলাকার তৃণভূমি পলিমাটির নীচে চলে গিয়েছে। যতদিন সেখানে ঘাস না জন্মাচ্ছে, ততদিন অন্যান্য তৃণভূমিতে পশুদের খাদ্য জোগানের চাপ থাকবে।
এদিকে, বন্যার সময় গন্ডার-মানুষ সংঘাত এড়ানোর কৃতিত্ব নিয়ে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বিভাগীয় বনাধিকারিক পারভিন কাশোয়ান বলেন, ‘পাঁচটি গন্ডার লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। মানুষ-গন্ডারের সংঘাত হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সকলের চেষ্টায় কোনওরকম ক্ষতি ছাড়াই গন্ডারগুলিকে উদ্ধার করা গিয়েছে। এই সাফল্য বনকর্মীদের পাশাপাশি ১৩টি কুনকি, দমকল, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার বিভিন্ন থানার। দিনরাত এক করে এতগুলি গন্ডারকে উদ্ধার করা জলদাপাড়া তথা ভারতের ইতিহাসে রেকর্ড হয়ে থাকবে।’
বিভাগীয় বনাধিকারিক জানালেন, তাঁরা ১৩টি কুনকি হাতির পাশাপাশি বাকি যাঁরা এই উদ্ধারকাজে দিনরাত এক করে দিয়েছেন, তাঁদের নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কোনও বিশেষ দিনে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।
