উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের মামলায় এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন নির্যাতিতার বাবা-মা (RG Kar Case)। শুক্রবার শিয়ালদহ আদালতে মামলার স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীর বিরুদ্ধে ‘বয়ান শিখিয়ে দেওয়া’ ও ‘ভয় দেখানোর’ মতো গুরুতর অভিযোগ আনেন তাঁরা।
আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্যাতিতার বাবা দাবি করেন, তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সরাসরি বলেছিলেন, সিবিআইয়ের শিখিয়ে দেওয়া বয়ানের বাইরে অন্য কিছু বললে মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে আটকে রাখা সম্ভব হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সিবিআইয়ের আইনজীবী পার্থ দত্ত নিজে তাঁদের কোর্টে দাঁড়িয়ে কী বলতে হবে তা ঠিক করে দিয়েছিলেন। এমনকি, আদালতের ভেতরে তাঁদের ঢুকতে দিতেও দীর্ঘ সময় বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
আদালতে নির্যাতিতার আইনজীবীর তরফে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ তিনজনকে অবিলম্বে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। সিবিআইয়ের ‘লিখিত অভিযোগ নেই’ যুক্তির প্রেক্ষিতে নির্যাতিতার বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তদন্ত ঠিকমতো না করেই উলটে আমাদের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে!”
অন্যদিকে, ঘটনার রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ বলেন, “মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছে সাড়ে তিন ঘণ্টা বসে ছিলাম, কিন্তু মেয়ের মুখ পর্যন্ত দেখতে দেওয়া হয়নি। সে সময় আইপিএস অফিসারদের ভিড়ে ক্রাইম সিন কার্যত নষ্ট করা হয়েছে।” এছাড়া, আরজি করের চিকিৎসক সুমিত রায় তপাদারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, মৃতদেহের ওপর কম্বল চাপা দিয়ে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল। তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে সুমিত রায়ের ফোন এবং দেহ মর্গে পাঠানোর নির্দেশের বিষয়টি নিয়েও তিনি পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
