নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ। মৃদু হাওয়ায় দুলছে কাশের বন। প্রকৃতি জানান দিচ্ছে দোরগোড়ায় পুজো। সপ্তাহ ঘুরলেই উৎসবে মেতে উঠবে বাঙালি। আর পুজো এলেই বিনয়ের ঘরে শুরু হয় তোড়জোড়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কাঁধে ঢাক তুলে এবার তমলুকের বিনয় বারিক পাড়ি দেবেন মুম্বইয়ে।
পেশায় ছিলেন শিক্ষক। দীর্ঘ কর্মজীবন কেটেছে শিক্ষকতা করেই। কর্মজীবনের শেষের দিকে ক্ষেত্রহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিযুক্ত ছিলেন বিনয় বারিক। বংশ পরম্পরায় যে ঢাকের বোলে সংসার চলেছে, অবসরেও বিনয় আঁকড়ে ধরেছেন সেই ঢাককেই। বংশের ঐতিহ্যকে আজও টিকিয়ে রেখেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের ধর্মবেড় গ্রামের বাসিন্দা বিনয় বারিক। মূলত ধর্মবেড় গ্রামের ২৫ থেকে ৩০ টি ঢাকি পরিবার রয়েছে। এই পরিবারগুলি সারাবছর বাঁশের ঝুড়ি বোনা থেকে শুরু করে ঢাক বাজানোর পেশার সাথেই সারা বছর যুক্ত। একইভাবে বিনয় বাবুও তার বাবার হাত ধরেই ঢাক বাজানোর পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ছেলেবেলা থেকেই। পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাক বাজানো ছাড়েননি তিনি।
আরও পড়ুন:
বিনয় বাবু জানান, এবছর মুম্বইয়ে পাড়ার ১২ জনের ঢাকির দল যাচ্ছেন। তিনি মুম্বই এর বাঁশি এলাকায় অসমিয়া ভবনের পুজো কমিটিতে ঢাক বাজানোর বরাত পেয়েছেন। আগামী ১৩ ই অক্টোবর মেচেদা থেকে ট্রেনে করে রওনা দেবেন বিনয় বাবু। এই সময়ে ঢাকের সুর তাল ছন্দ ঠিকঠাক রাখার জন্য চলছে ঢাক প্রস্তুতির কাজ। বংশ পরম্পরা ঢাক বাজানোর সুবাদে বারিক পরিবারের বেশ নামডাক রয়েছে। তবে বিনয় বাবুর আক্ষেপ, বর্তমান প্রজন্ম আর এই পেশার প্রতি আগ্রহ তেমন দেখাচ্ছেন না। বিনয় বাবুর কথায়, “বাপ-ঠাকুদ্দার আদি পেশা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যতদিন শারীরিক শক্তি থাকবে, ততদিন এই পেশাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাব।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
