উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ফের উত্তপ্ত পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)। আলোচনার মাধ্যমে জট কাটার পরিবর্তে বুলেট আর কাঁদানে গ্যাসে আন্দোলন দমনের মারাত্মক অভিযোগ উঠল পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। রবিবার ভোররাতে PoK-এর রাওয়ালকোটের (Rawalakot) ঈদগাহ ময়দানে ফজর নামাজের সময় অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। এলোপাতাড়ি গুলি, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের জেরে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা এলাকা। এই বর্বর ক্র্যাকডাউনে (অভিযান) এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩ জন আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন বলে খবর।
স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মারফত জানা গেছে, জম্মু ও কাশ্মীর আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (AAC) সদস্যরা রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছিলেন।
- ভোররাতের অপারেশন: ভোরের নামাজ (ফজর)-এর সময় বিশাল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী গোটা মাঠ ঘিরে ফেলে।
- সরাসরি গুলি ও শেলিং: বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কোনো রকম প্ররোচনা ছাড়াই সরাসরি গুলি চালানো হয়। সেই সঙ্গে মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়া হতে থাকে। চোখের নিমেষে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় রাওয়ালকোটের বিস্তীর্ণ আকাশ।
- নিহতদের পরিচয়: নিহতদের মধ্যে একজনের নাম নাইম আমিন বলে শনাক্ত করা গেছে, যিনি প্লান্দ্রি ফালিয়ানের বাসিন্দা। বাকিদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির নেতাদের অভিযোগ, তাঁদের ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে হিংসাত্মক পথে ঠেলে দিতেই পাকিস্তানি প্রশাসন এই ধরণের ‘উস্কানিমূলক কৌশল’ (Provocation Ways) ব্যবহার করছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি— প্রশাসন আলোচনা টেবিলে বসার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে, যাতে আন্দোলনের মূল দাবিগুলো থেকে সাধারণের নজর ঘুরিয়ে দেওয়া যায়।
এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর আজ অষ্টম দিনে পড়ল প্রশাসন বনাম আন্দোলনকারীদের সংঘাত। কোনো রকম রফাসূত্র না মেলায় এবং ভোরে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চলায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাওয়ালকোট জুড়ে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অটল জেদের সামনে প্রশাসন কতটা টিকতে পারে, এখন সেটাই দেখার।
