উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাম মন্দিরে চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার হলেও এখনও অধরা বিপুল পরিমাণ সোনা ও মূল্যবান ধাতু (Ram Temple Gold Theft)। তদন্তকারীদের ধারণা, চুরি যাওয়া সোনা গলিয়ে তা বিস্কুটে পরিণত করা হয়েছে, যাতে সহজেই সেগুলিকে লুকিয়ে ফেলা যায় এবং শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্তমানে এই অপহৃত সোনার সন্ধানেই মরিয়া বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)।
তদন্তের স্বার্থে সিটের কর্তারা রাম মন্দির পরিদর্শন করেছেন। মন্দিরের ইনচার্জ কেডি বাবুকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গয়না ও মূল্যবান সামগ্রীর রক্ষণাবেক্ষণের খুঁটিনাটি তথ্য জানার পাশাপাশি, প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (মিন্ট)-এর সঙ্গে লেনদেনের নথি তলব করেছে তদন্তকারী দল। ব্যাঙ্ক ও মিন্টে পাঠানো মূল্যবান ধাতুর হিসাব চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সিটের প্রাথমিক অনুমান, দানে পাওয়া সোনা ও ধাতু নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠানো হয়নি। যার একটি বড় অংশ চুরির কবলে পড়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ভক্তদের দানের আয়ের হিসাব ট্রাস্ট তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা করলেও সোনা, রুপো বা অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মজুত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতো না। প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই জানিয়েছিলেন যে, মন্দির ট্রাস্ট অনুদান হিসেবে প্রায় ১৩ কুইন্টাল রুপো এবং প্রায় ২০ কেজি সোনা পেয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে ৯.৪৪ কুইন্টাল রুপো গলানোর জন্য সরকারি টাকশালে পাঠানো হলেও, বাকি সোনা ও ধাতুর সঠিক হিসাব না মেলায় দুর্নীতির জাল ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
চুরি যাওয়া সোনা উদ্ধার করতে এখন সিট গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে।

