উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের পদত্যাগের পরেও পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক। রামমন্দিরে প্রণামীর টাকা চুরির ঘটনায় (Ram Temple donation theft row) এবার সরাসরি চম্পত রাইয়ের বিরুদ্ধে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন স্থানীয় আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রাক্তন ট্রাস্ট প্রধানের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করতে হবে।
গত কয়েকদিন ধরেই রামমন্দিরের (Ram Mandir) দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা নিয়ে অযোধ্যার (Ayodhya) আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। চম্পত রাই অযোধ্যা না ছাড়লে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই হুঁশিয়ারি মেনেই বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল থানায় গিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) যখন এই জালিয়াতির শিকড় খুঁজতে তদন্তের পরিধি বাড়াচ্ছে, তখনই এই নতুন অভিযোগ মামলাটিকে ভিন্ন মাত্রা দিল।
প্রসঙ্গত, এই চুরির ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। এর মধ্যে অন্যতম হলেন রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিনু যাদব, যিনি চম্পত রাইয়ের গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, মন্দিরের বেসমেন্টে টাকা গণনার কাজে নিযুক্ত থাকা তিনু নিজের পদের সুযোগ নিয়ে এই জালিয়াতি চালিয়েছেন। পুলিশের তল্লাশিতে তিনুর বাড়ি থেকে নগদও উদ্ধার হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিতর্কের মুখে পড়ে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চম্পত রাই। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি দাবি করেছেন, সম্পূর্ণ বিষয়টি তিনুর চক্রান্ত। নিজের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ওই চালকই এই জালিয়াতি করেছে বলে তাঁর ধারণা। এরই মধ্যে তদন্তকারীরা চম্পত রাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড করেছেন। তাঁকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাস্টের পরবর্তী বৈঠকে চম্পতের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রামমন্দিরের পবিত্রতা এবং বিশ্বাসের ওপর আঘাত হানা এই চুরিকাণ্ড এবং তার জেরে প্রাক্তন কর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

