বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: অভাবের কারণে কালীপুজোয় নতুন জামা কিনে দিতে পারেননি বাবা। তাই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মসূচিতে বিনামূল্যে জামা আনতে গিয়ে আর বাড়ি ফিরল না বোগ্রাম রায়পাড়ার বাসিন্দা অলকা রায় (বর্ষা)। রায়গঞ্জ থানার কর্ণজোড়া ফাঁড়ির অন্তর্গত কুলিক নদী সংলগ্ন আব্দুলঘাটা জঙ্গল থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত নগ্ন দেহ উদ্ধার হল বৃহস্পতিবার। পরিবারের অভিযোগ, ওই নাবালিকাকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে (Raiganj minor homicide)।
গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের অলকা। আসন্ন কালীপুজোয় নতুন জামা পড়ার বায়না করেছিল সে। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তা কিনে দিতে পারেননি তার বাবা শঙ্কর রায়। এরপর গত মঙ্গলবার রায়গঞ্জের চণ্ডীতলা এলাকার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বস্ত্র বিতরণের কর্মসূচির কথা জানতে পেরে সাইকেল নিয়ে একাই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল অলকা। ইচ্ছে ছিল নতুন একটা জামা সংগ্রহ করার। কিন্তু এরপর থেকেই সে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও হদিশ না মেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে রায়গঞ্জ থানা ও কর্ণজোড়া ফাঁড়িতে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় পরিবারের তরফে। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্দুলঘাটা গভীর জঙ্গলে এক নাবালিকার নগ্ন দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ডিএসপি সদর ও রায়গঞ্জ থানার আইসি সন্দীপ চক্রবর্তীসহ জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী। পুলিশ সুত্রে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে নিজের শিশুকন্যার ওই বীভৎস দেহ শনাক্ত করেন নাবালিকার বাবা শঙ্করবাবু। তাঁর, অভিযোগ, ‘আমার মেয়েকে অত্যন্ত পাশবিকভাবে ধর্ষণ করেছে নরপিশাচরা। তারপর গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর, দেহটি একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে আটকে রাখা হয়েছিল।’ স্থানীয় বাসিন্দা রবি দাসের অভিযোগ, ‘এই এলাকায় নিত্যদিন নেশাখোরদের দাপট। বহিরাগত ছেলেরা এসে মদ ও নানা ধরনের নেশা করে। আমরা কিছু বলতে গেলে আমাদের ওপর তেড়ে আসে। অধিকাংশ ছেলের কাছেই রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, তাই আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারি না।’ ঘটনা প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার ডা. সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, ‘একটি নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। রায়গঞ্জ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।’

