রায়গঞ্জ: “ভালোবাসা করে বিয়ে করেছিলাম, সেই ভালোবাসাই বুঝি ফুরিয়ে গিয়েছে। আর তোমার সঙ্গে ঘর করা সম্ভব নয়।” একসময়ের গভীর প্রেমের টানে ঘর বাঁধলেও, সেই সম্পর্কের তিক্ততা চরমে পৌঁছানোয় এই আবেগঘন চিঠি লিখে শ্বশুরবাড়ি ছাড়লেন এক গৃহবধূ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর রায়গঞ্জ ও করণদিঘি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Raiganj Home Violence)।
করণদিঘি থানার রসাখোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মহেশপুর এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ পাল পেশায় গাড়িচালক। শুক্রবার রাতে স্ত্রী লিপি দাস পালের সঙ্গেই ঘুমোতে যান তিনি। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন স্ত্রী নিখোঁজ। বিছানায় পড়ে রয়েছে কেবল একটি চিঠি। পরিবারের লোকজন ও পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তাঁর হদিশ পাচ্ছিল না।
অবশেষে লিপি দাসের খোঁজ মেলে রায়গঞ্জ শহরের রাসবিহারী মার্কেট এলাকায়। সেখানে স্ত্রীকে নিতে এলে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রকাশ্য রাস্তায় হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তবে লিপি দেবী নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর বাড়িতে এখন আর ভালোবাসা নেই, আছে কেবল নিত্যদিনের ঝগড়া ও অপমান।
এই ঘটনার পর মেয়ের পরিবারের তরফে রায়গঞ্জ থানায় বধূ নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্বামী প্রদীপ পাল এবং তাঁর দুই বোন (ননদ) রিনা পাল ও অনিমা পালকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, লিপি দেবীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এর আগে স্থানীয়ভাবে সালিশি সভা করেও কোনো সমাধান হয়নি।
বুধবার ধৃতদের রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার জানান, ধৃতদের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বিচারক ধৃত তিনজনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
