রাহুল দেব, রায়গঞ্জ: সাত বছর ধরে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে (Raiganj College) সমাবর্তন না হওয়ায় বিপাকে ছাত্রছাত্রী থেকে গবেষকরা। অন্তবর্তীকালীন বা ‘প্রভিশনাল’ শংসাপত্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাঁদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপাল মনোনীত অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে দীপক রায় দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০২৩ সালের ২২ অগাস্ট। তারপর পেরিয়ে গিয়েছে সওয়া দুই বছর। কিন্তু এই সময়কালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন (কনভোকেশন) করাতে পারেননি তিনি।
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষবার সমাবর্তন হয় ২০১৯ সালের শুরুতে। তখন উপাচার্য ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পিএইচডি গাইড অনিল ভুঁইমালি। তাঁর অপসারণের পর উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন সঞ্চারী রায় মুখোপাধ্যায়, জ্যোৎস্নাকুমার মণ্ডল এবং বর্তমানে দীপক রায়। ২০১৯-এর সমাবর্তনের পর পেরোতে চলল প্রায় সাত বছর। অথচ এই সময়ে একটা সমাবর্তনও হয়নি। সমাবর্তন না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি’র পড়ুয়ারা শংসাপত্র পান না। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে পড়ুয়াদের হাতে অন্তর্বর্তীকালীন বা ‘প্রভিশনাল’ শংসাপত্র দেওয়া হয়। আড়াইশো টাকা দিয়ে সেটা নিয়েই আপাতত কাজ চালাতে হচ্ছে সবাইকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তনী সম্প্রতি কেন্দ্র সরকারের শিক্ষা দপ্তরে চাকরি পেয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘এখনও কেন সমাবর্তন হল না তা স্পষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত দ্রুততার সঙ্গে সমাবর্তনের জন্য পদক্ষেপ করা। নইলে আমার মতো অনেককেই চাকরির জায়গায় আসলের বদলে অন্তর্বর্তীকালীন শংসাপত্র দিয়ে কাজ চালাতে হবে।’
এদিকে, ছাত্র সংগঠনগুলোও সমাবর্তন না হওয়ায় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই। ছাত্র সংগঠন এবিভিপি’র জেলা সংযোজক শুভজিৎ দাসের কথায়, ‘রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য সমাবর্তন করাতে পারছেন না। ফলে ছাত্রছাত্রীরা সমস্যায় পড়ছেন। আমরা খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেব। পড়ুয়াদের স্বার্থে সমাবর্তন জরুরি।’ এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক কুষাণ ভৌমিক বলেন, ‘রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু দুর্নীতি চলে। তাই এখানে সমাবর্তন না হওয়াটাই স্বাভাবিক। উপাচার্যের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ দেওয়া হয় বলে শুনেছি। তবে সওয়া দুই বছর উপাচার্য থেকেও সমাবর্তন না করানো এবং সাত বছর ধরে সমাবর্তন না হওয়া সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জানান, পড়ুয়ারা পাশ করার পর শংসাপত্র একমাত্র সমাবর্তনের পরেই দেওয়া যায়। ফলে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচুর পড়ুয়া বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থায়ী উপাচার্য না এলে মনে হয় না কিছু হবে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কোর্টে আচার্য তথা রাজ্যপালের প্রতিনিধি না থাকার কারণে সমাবর্তনের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি বলে প্রতিষ্ঠান সূত্রে খবর। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডঃ দুর্লভ সরকার বলেন, ‘সমাবর্তন করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় কোর্টের মিটিং ডাকতে হয়। সেখানে রাজ্যপালের পাঁচজন নমিনি থাকেন। কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টে রাজ্যপালের কোনও নমিনিই নেই। দুই বছর আগে আমরা রাজ্যপালের নমিনি চেয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। কিন্তু এখনও সেই বিষয়ে কোনও সাড়া মেলেনি। কোর্ট মিটিং ডাকা না গেলে সমাবর্তনের প্রস্তাব রাজভবন ও বিকাশ ভবনে পাঠানো যাবে না। রাজভবন ও বিকাশ ভবনের যৌথ অনুমোদনের পরই সমাবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’ তবে অন্তর্বর্তীকালীন শংসাপত্র ‘ডিজি-লকারে’ আপলোড করে দিলে তা সবসময়ই গ্রহণযোগ্য বলে অভিমত রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকারের।
