দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: শিশুদের আনন্দ দিতে ও ড্রইং রুমের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে অ্যাকোয়ারিয়ামের তুলনা নেই। খুব কাছ থেকে যেন সমুদ্রের তলদেশ আর বাহারি মাছ দেখা যায়। জীবন্ত মাছগুলিকে সাঁতার কাটতে দেখে শিশুদের আনন্দের শেষ থাকে না। তাদের কথা ভেবেই ১৯৯২ সালে নিজের রায়গঞ্জের (Raiganj) উকিলপাড়ার বাড়িতে অ্যাকোয়ারিয়াম গ্যালারি গড়ে তুলেছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী সুবীর চক্রবর্তী (৬২)। তাঁর অবসর সময়ের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে এই গ্যালারি। সেইসঙ্গে বেশ কয়েকজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।
রায়গঞ্জের বোগ্রামে অবস্থিত স্পিনিং মিলে ১৯৮৪ সালে যোগ দেন সুবীরবাবু। ১৯৯২ সালে কাচ জোড়া দিয়ে অ্যাকোয়ারিয়াম তৈরি করা শুরু করেন। কলকাতা থেকে নিয়ে আসেন মাছ সহ অন্যান্য উপকরণ। এরপর প্রতিবেশীদের দাবি মতো বানাতে শুরু করেন কাচের বাক্সের ঘর। অনেক বেকার তরুণকে কাজ শিখিয়ে স্বনির্ভর
করে তোলেন। তবে ২০১৫ সালে মালদার হবিবপুরে আইটিআই কলেজে তাঁকে ট্রান্সফার করে দিলে তিনি বিপদে পড়েন। কিন্তু অ্যাকোয়ারিয়াম বানানোর নেশা থেকে তিনি সরে যাননি। ২০২৪ সালে অবসর নেওয়ার পর থেকে এটাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। বাড়িতে তৈরি করেন অ্যাকোয়ারিয়াম গ্যালারি। শহরে তাঁর আরেকটি শোরুম রয়েছে অ্যাকোয়ারিয়ামের।
সুবীরবাবু বলেন, ‘চাকরি জীবন শেষ হয়েছে গত বছর। কিন্তু এই কাজটা শুরু করেছি প্রায় ৩৪ বছর আগে। ১৯৯১ সালে গ্লাস টু গ্লাস আঠা দিয়ে অ্যাকোয়ারিয়াম তৈরির বিষয়ে অবগত হই। এরপর মাথায় আসে এই বিষয়ে রপ্ত হয়ে রায়গঞ্জের সাধারণ মানুষকে অ্যাকোয়ারিয়ামের প্রতি আগ্রহী করে তুলব।’
যদিও এখন রায়গঞ্জ ছাড়িয়ে পাশের জেলা থেকেও সাধারণ মানুষ আসছেন। অবসর সময়ে মাছ ও মাছের পরিচর্যাই একমাত্র সঙ্গী সুবীরবাবুর। তাঁর কথায়, ‘এটাই বড় প্রাপ্তি। এর চেয়ে আর বেশি কিছু পাওয়ার নেই।’
