দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: স্টেশনে ট্রেন ঢুকলে কোন কামরা কোথায় দাঁড়াবে তার জন্য প্ল্যাটফর্মে কোচ ইন্ডিকেশন বোর্ড লাগানো থাকে। এতে যাত্রী সাধারণের তাঁদের কামরা খুঁজে নিতে সুবিধা হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষমদের অনেক সুবিধা হয়। কিন্তু রায়গঞ্জ (Raiganj) রেলস্টেশনে সেসব কিছু নেই। তাই স্টেশনে ট্রেন ঢুকলে যাত্রীরা কামরার নম্বরের দিকে নজর রেখে প্ল্যাটফর্মে ছুটতে থাকেন। এতে অনেক সময় যে কোনও বিপদ হতে পারে। এতে সবথেকে বেশি অসুবিধার মুখে পড়েন বয়স্ক মানুষজন ও বিশেষভাবে সক্ষমরা।
তাঁদের অভিযোগ, স্টেশনে কোচ ইন্ডিকেশন বোর্ড তো নেই। তার ওপরে ট্রেন অনেক সময় প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্টেশনে ট্রেন আসার পর বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য সংরক্ষিত কামরাগুলি প্ল্যাটফর্মের কোথায় দাঁড়াবে তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন যাত্রী ও তাঁদের পরিজনেরা। কারণ, কামরাগুলি অনেক সময় প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে দাঁড়ায়। ফলে বিশেষভাবে সক্ষমদের ট্রেনে তুলতে বা ট্রেন থেকে নামাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় পরিজনদের। এমন সমস্যা অনেকদিন ধরেই চলছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
সোমবার সকালে বিশেষভাবে সক্ষম এক যাত্রী রূপক দাস ট্রেন থেকে নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্ল্যাটফর্মের বাইরে ট্রেনের বগি গিয়ে দাঁড়ালে আমাদের পক্ষে ট্রেন থেকে সিঁড়ি দিয়ে এতটা নীচে নামা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আজকে দুজন ব্যক্তি এসে আমাকে ট্রেন থেকে নামতে সাহায্য না করলে হয়তো নামতেই পারতাম না। রেল দপ্তরের উচিত আমাদের সংরক্ষিত কামরাটি যাতে প্ল্যাটফর্মে থামে সেদিকে নজর দেওয়া।’ একই মত অপর এক মহিলা রেলযাত্রী দীপালি সাহারও।
উত্তর দিনাজপুর বাস ও মিনিবাস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্লাবন প্রামাণিকের কথায়, ‘রায়গঞ্জ রেলস্টেশনটি শহরের মধ্যে একদম বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া। এদিন স্টেশনে গিয়ে দেখেছি রাধিকাপুর এক্সপ্রেসের দুটি কামরা ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরে গিয়ে দাঁড়ায়। এতে প্রবীণ মহিলা যাত্রী ও বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের আত্মীয়রা তাঁদের ট্রেন থেকে নামিয়ে নিয়ে আসতে সমস্যার মধ্যে পড়েন। আবার অনেকে একা নামতে গিয়ে পড়ে গিয়েছেন। ট্রেনে ওঠার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম যেহেতু ছোট তাহলে ১ নম্বরে ট্রেন দাঁড়ালে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
উত্তর দিনাজপুর রেল উন্নয়ন মঞ্চ অনেকদিন থেকে রায়গঞ্জ স্টেশনে ইন্ডিকেশন বোর্ড বসানোর দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এখনও তা হয়নি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অঙ্কুশ মৈত্র বললেন, ‘রাধিকাপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের কয়েকটি বগি প্ল্যাটফর্মের বাইরে গিয়ে দাঁড়ায়। তবে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ইলেক্ট্রিফিকেশনের কাজ শেষ হলে ওই প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়াবে। তারপর আশা করি আর কোনও সমস্যা হবে না।’
রায়গঞ্জ রেলস্টেশন মাস্টার রাজু কুমারের বক্তব্য, ‘২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ইঞ্জিনটি সঠিক জায়গায় থামালে একটি কামরাও প্ল্যাটফর্মের বাইরে যাবে না। কিন্তু কোনও কোনও চালক যেদিন ইঞ্জিন সঠিক জায়গায় দাঁড় করাচ্ছেন না, সেদিনই এমন সমস্যা হচ্ছে। এবিষয়ে চালকদের সচেতন করা হবে।’
