রাহুল দেব, রায়গঞ্জ: টলিউড তারকা তথা সাংসদ দেব (Dev)-কে ঘিরে উন্মাদনায় রায়গঞ্জ (Raiganj) মেতে উঠলেও এবার সেই উন্মাদনা তৈরি করেছে বিতর্ক। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর রায়গঞ্জের সুরেন্দ্রনাথ মহাবিদ্যালয়ে তাঁর অভিনীত নতুন ছবির প্রোমো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু একই দিনে ওই কলেজেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম-দশম স্তরের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা থাকায় সময়সূচি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
পরীক্ষার সময় নির্ধারিত রয়েছে দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত। আর দেবের প্রোমো অনুষ্ঠানের সময় বেঁধে রাখা হয়েছে দুপুর ২টো। দীর্ঘ দশ বছর পর এসএসসি পরীক্ষা হতে চলেছে। কয়েক মাস আগে দুর্নীতির অভিযোগে বাতিল হওয়া তালিকার বহু প্রার্থীও এবার পরীক্ষা দিচ্ছেন। তাই একই দিনে কলেজ চত্বরে দেবের প্রোমো হলে জনসমাগমের কারণে পরীক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলে দাবি বিরোধীদের।
উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur) জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমরা দেবের ছবির বিপক্ষে নই। অভিনেতা দেবকে রায়গঞ্জে স্বাগত জানাই। কিন্তু এসএসসি দুর্নীতির ইতিহাস সকলেই জানেন। এবার সেই বাতিল প্যানেলের বহু যোগ্য প্রার্থী পরীক্ষা দেবেন। অথচ একই সময়ে প্রোমো হলে ভিড়ের জন্য পরীক্ষা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই দেবের প্রোমো অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়াই উচিত।’
গত বছর ডিসেম্বরেও দেব রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে তাঁর ছবির প্রোমো করতে এসেছিলেন। সেদিন ‘ফ্যান’ জনতার ভিড় এতটাই হয়েছিল যে মাঠে তিলধারণের জায়গা ছিল না। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হলে পরীক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থীর বক্তব্য, ‘দশ বছর পর পরীক্ষা হতে চলেছে। এখন যদি বিনোদনের জন্য পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়, তার থেকে দুর্ভাগ্যের কিছু হতে পারে না।’
বিজেপি জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজও কটাক্ষ করে বলেন, ‘রাজ্য সরকারের শিক্ষক নিয়োগে কোনও আগ্রহ নেই। তাই বিনোদনই হাতিয়ার। একই জায়গায় পরীক্ষা আর তৃণমূলের সাংসদ-অভিনেতার প্রোমো অনুষ্ঠানের মতো ঘটনা লজ্জাজনক। ধিক্কার জানাই।’
তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল অবশ্য দায় চাপিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর। তাঁর কথায়, ‘কলেজে দেবের প্রোমো হলে অনুমতি নিশ্চয়ই কর্তৃপক্ষই দিয়েছেন। তবে পরীক্ষার বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত।’
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও স্পষ্ট কোনও অবস্থান জানানো হয়নি। কলেজের অধ্যক্ষ চন্দন রায় ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি শুধু মেসেজ লিখে জানান, ‘মেডিকেল গ্রাউন্ডে ছুটিতে রয়েছি। কাজে যোগ না দেওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করতে পারব না।’ ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক শংকর রায় বলেন, ‘আমি মাত্র তিনদিন ধরে দায়িত্বে আছি। এই সময়ে কোনও অনুমতি দিইনি। আগে হয়ে থাকলে আমার জানা নেই।’ সুরেন্দ্রনাথ কলেজের প্রশাসক তথা মহকুমা শাসক কিংশুক মাইতি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।’
