দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: মোবাইল ফোন চুরির মধ্যে দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে রায়গঞ্জে। এই ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হচ্ছে নাবালকদের। বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে যা টের পেয়েছে পুলিশ। যে কারণে মূল মাথাদের ধরতে বিভিন্ন বাজার এবং জনবহুল এলাকায় ঘুরে বেরানো কমবয়সিদের ওপর নজর রাখছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, গত এক মাসে ২৬৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধারের পাশাপাশি ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। সাইবার ক্রাইমের এক আধিকারিক বলেন, ‘নানাভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু ফোন হারিয়ে গেলে নিমেষেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে টাকা উদ্ধার হলেও, কিছু ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না।’
রায়গঞ্জের বারোদুয়ারি হাটে মোবাইল ফোন খোয়া যায় পানিশালির হোটেল ব্যবসায়ী মানস দে’র। মঙ্গলবার ঘটনার পরই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা যায়, তাঁর পকেট থেকে ১৩-১৪ বছরের একটি ছেলে ফোনটি তুলে ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি টের পান ইউপিআই ট্রানজাকশনের মাধ্যমে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষাধিক টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন, ওই টাকা ভিনরাজ্যের বিভিন্ন সংস্থায় ট্রান্সফার হয়েছে। এদিন বিকেলে রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানান মানস। জানতে পারেন, একই ঘটনা ঘটেছে অনেকের সঙ্গে। মানস বলছেন, ‘ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে দেখি প্রায় লক্ষাধিক টাকা নেই। মঙ্গল ও বুধবার মিলিয়ে সাতবার টাকা তোলা হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোবাইল ফোন চুরির চক্রটি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করছে। ওই চুরিচক্রের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরেছে। মূল মাথাদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। সদ্য কৈশোরে পা রাখা ছেলের চুরির হাত দেখে তাজ্জব পুলিশকর্তারা। এই নাবালকদের চিহ্নিত করে মূল পান্ডাদের ধরতে না পারলে মোবাইল চুরি বন্ধ করা যাবে না বলে মনে করছেন বারোদুয়ারির সার ও কীটনাশক সামগ্রী বিক্রেতা রতনকুমার দেবের মতো অনেকেই। রতন বলছেন, ‘নানা অছিলায় নাবালক ছেলেমেয়ের দল দোকানে ঢুকে পড়ে। এরা নিমেষেই মোবাইল ফোন চুরি করে। এদের চিহ্নিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।’ পুলিশি নজরও এখন নাবালকদের ওপর।
