রায়গঞ্জ: দু’লক্ষ টাকার বিনিময়ে নববধূকে দিল্লির পতিতাপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও জড়িত রয়েছেন। পাশাপাশি, নির্যাতিতা তরুণীর আপত্তিকর ও বিকৃত ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। বৃহস্পতিবার কর্ণজোড়ার সাইবার অপরাধ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিগৃহীতা ওই নববধূ। তার ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
৮ মাস আগে ইটাহার থানা এলাকার ওই তরুণীর সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা জনৈক তরুণের বিয়ে হয়। কিছুদিন পর, পেশায় নির্মাণশ্রমিক ওই তরুণের সঙ্গে দিল্লি পাড়ি দেন নববধূ। অভিযোগ, মাস দুয়েক না যেতেই সেখানকার এক পতিতাপল্লিতে দু’লক্ষ টাকার বিনিময়ে তরুণীকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। চলতি মাসের ১৪ তারিখে পতিতাপল্লির জানলা ভেঙে কোনওমতে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন তিনি। এরপর নয়াদিল্লি স্টেশনের রেল পুলিশের সহায়তায় ট্রেন ধরে বুধবার বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। গোটা ঘটনা জানিয়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী বিশ্বরূপ দেবের দ্বারস্থ হন তিনি।
তরুণীর বক্তব্য, ‘আমার পরিবারকে আমার স্বামী ফোন করে জানান, আমি নাকি অন্য পুরুষের সঙ্গে পলাতক। এদিকে আমার কিছু আপত্তিকর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেন। আমি ওই পতিতাপল্লি থেকে কোনওক্রমে পালিয়ে এসেছি। ঘটনার সঙ্গে আমার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়িত। তাদের বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আইনজীবী বিশ্বরূপ বলেন, ‘তরুণীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন তঁার স্বামী। ফলে যোগাযোগের কোনও সুযোগ ছিল না। দিল্লি থেকে কোনওক্রমে পালিয়ে আসার পর আমার কাছে এলে, আমি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়েরের ব্যবস্থা করি। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারার পাশাপাশি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী খুনের চেষ্টা, অপহরণের মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।’
এদিকে তরুণীর বাবা বলেন, ‘নগদ এক লক্ষ দশ হাজার টাকা, দেড় ভরি সোনা, পাঁচ ভরি রুপো ছাড়াও আসবাবপত্র দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। জামাইয়ের সঙ্গে মেয়ে দিল্লি যাওয়ার পর ফোন মারফত জানতে পারি, আমার মেয়ে নাকি অন্য এক তরুণের সঙ্গে পালিয়েছে। গতকাল মেয়ের মুখ থেকে জানতে পারি জামাইয়ের কুকীর্তির কথা। এরপর আইনজীবীর পরামর্শে কর্ণজোড়া সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। জামাই এখনও দিল্লিতে রয়েছে।’
এদিকে, কর্ণজোড়া সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
