রায়গঞ্জ: জমির পাট্টা দেওয়ার বিনিময়ে কাটমানি চাওয়ার অভিযোগ উঠল রায়গঞ্জের (Raiganj) করণদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ পূর্ণিমা সিনহার স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি করণদিঘি-২ অঞ্চলের টুঙ্গিদিঘির সুলতানপুরের। নারায়ণ চন্দ্র সিনহা নামে ওই ব্যক্তি স্থানীয় তৃণমূল নেতা। অভিযোগ, পাট্টা পাইয়ে দিতে ১৯টি পরিবারের কাছ থেকে মোট ২৬ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। কিন্তু ওই পরিবারগুলি তাঁকে ও দপ্তরের এক আধিকারিককে দাবিমতো টাকা না দেওয়ায় পাট্টা বিতরণের কাজ আটকে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার ১৯টি পরিবার রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জানাতে আসেন। দপ্তরের এক সহ জেলা আধিকারিকের কাছে পাট্টা দেওয়া নিয়ে গড়িমসির অভিযোগ জানান। এনিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। যদিও নারায়ণ চন্দ্র সিনহার দাবি, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি এবিষয়ে কিছুই জানেন না।
সুলতানপুর গ্রামে প্রায় ৩ একর ভেস্ট জমির উপর ১৯টি পরিবার বসবাস করছেন। দিনমজুরের কাজ করেন পরিবারের সদস্যরা। ২০২২ সালে পরিবারগুলি করণদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির কাছে পাট্টার জন্য আবেদন করেন। পূর্বের বোর্ডের স্থায়ী সমিতি আবেদন পাশ করে দেয়। এরপর করণদিঘি ব্লকে তা আসে। সেখানেও পাশ হয়। অভিযোগ, ২০২৩ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন বোর্ড আসতেই আবেদন বাস্তবায়নের জন্য টালবাহানা শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ১৫ দিন আগে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নারায়ণ চন্দ্র সিনহা তাদের কাছে সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য ২৬ লক্ষ টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ।
দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলি এত টাকা কোথা থেকে পাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তাঁরা। বাধ্য হয়ে তাঁরা রায়গঞ্জে জেলা দপ্তরে দরবার করেন। মাজেদা বিবি, সাহেলা বিবি, ফিরোজা খাতুন, কলিমুদ্দিন, তানিম আখতাররা এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কলিমুদ্দিন বলেন, ‘২০২২ সাল থেকে আমরা পাট্টার জন্য ঘুরে যাচ্ছি। কাগজপত্র জমা পড়েছে। কিন্তু নানা অজুহাত দিয়ে আসছে এতদিন। আজ থেকে ১৫ দিন আগে করণদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্ততরের কর্মাধ্যক্ষের স্বামী আমাদের কাছে ২৬ লক্ষ চেয়েছে। টাকা না দিলে পাট্টা হবে না বলে জানিয়ে দেন। তাই বাধ্য হয়ে রায়গঞ্জে এসেছি অভিযোগ জানাতে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘নারায়ণবাবু ও দপ্তরের এক আধিকারিক এই কাজে যুক্ত। টাকা না দেওয়ায় আমাদের পাট্টার কাজ আটকে দিয়েছেন।’ একই অভিযোগ, সাহেলা বিবির।
এবিষয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য উত্তম পাল বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে পাট্টা বিতরণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে গরিব মানুষের কাছ থেকে টাকা দাবি করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা।’ বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ অভিযোগ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’-র মতো সরকারি প্রকল্পের আওতায় ঘর পাওয়ার জন্য বা পাট্টা জমিতে বাড়ি তৈরির জন্য কাটমানির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতির সঙ্গে দপ্তরের একাংশ কর্মী ও আধিকারিক যুক্ত।’
করণদিঘি ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিক সুমিত ভট্টাচার্য জানান, ‘২০২২ সালে পাট্টার জন্য আবেদন করেছিলেন ওঁনারা। এসডিও অফিস থেকে পাট্টার জন্য ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠায়। ভেরিফিকেশনের সময় জিও ট্যাগিং করে অতিরিক্ত জমি আছে কিনা দেখা হয়। নিশ্চই কোনো ডকুমেন্টসের অভাব আছে। যদি সব ঠিকঠাক থাকে তবে আমরা স্থায়ী সমিতির কাছে পাঠাবো।’
